মালদা জেলা পরিষদে তোলপাড়, খোদ সভাধিপতির বিরুদ্ধেই তৃণমূলের একাংশের অনাস্থা!

মালদা জেলা পরিষদে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবার চরম আকার ধারণ করল। খোদ দলেরই সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ এবং সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলেন তৃণমূলের ১৭ জন নির্বাচিত সদস্য। সোমবার দুপুরে ডিভিশনাল কমিশনারের দপ্তরে এই অনাস্থার চিঠি জমা পড়তেই জেলা রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে এবং চরম অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব।
ক্ষোভের কারণ ও অভিযোগ
বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্যদের প্রধান অভিযোগ হলো স্বজনপোষণ এবং প্রশাসনিক কাজে ব্যাপক অনিয়ম। মালদা জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ প্রতিভা সিংহ এবং বিক্ষুব্ধ সদস্য সাগরিকা সরকারের দাবি, সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্রভাবে কাজ চালাচ্ছেন। অন্যান্য নির্বাচিত সদস্যদের কোনো গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের পছন্দের কয়েকজনকে দিয়ে সমস্ত কাজ করানো হচ্ছে। এমনকি বাজেট পেশের আগে কোনো সাধারণ সভাও ডাকা হয়নি। বিক্ষুব্ধরা স্পষ্ট জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে, তবে বর্তমান নেতৃত্বের অপসারণ ঘটিয়ে নতুন বোর্ড গঠনের দাবিতেই তাঁরা সরব হয়েছেন। অন্যদিকে, সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন যে নিয়ম মেনেই সব কাজ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মালদা জেলা পরিষদের মোট ৪৩টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের দখলে রয়েছে ৩৪টি আসন, কংগ্রেসের ৫টি এবং বিজেপির ৪টি। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তৃণমূল বোর্ড গঠন করলেও দলের এই প্রবল ভাঙন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। বিরোধী দল কংগ্রেস এবং বিজেপি জানিয়েছে এটি সম্পূর্ণ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, তাই তারা এর মধ্যে হস্তক্ষেপ করবে না। তবে ১৭ জন সদস্য যদি তাঁদের অনাস্থায় অনড় থাকেন, তাহলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মালদা জেলা পরিষদে তৃণমূলের বর্তমান বোর্ড ভেঙে নতুনভাবে গঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে জেলায় শাসকদলের সাংগঠনিক ফাটলকেই প্রকট করে তুলল।