১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে ইডি দফতর থেকে বেরিয়েই হুঙ্কার অভিষেকের

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) টানা ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১৫ জুন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সিজিও কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দীর্ঘ জেরার সম্মুখীন হলেও, তাঁর শরীরী ভাষায় ক্লান্তির লেশমাত্র ছিল না। বরং ইডি দফতর থেকে বেরিয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণের সুর চড়ান তিনি। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো চাপের কাছে তাঁরা মাথা নত করবেন না।
তদন্তে সহযোগিতা ও আইনি দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন
ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তদন্তের স্বার্থে তিনি সবরকম সহযোগিতা করেছেন এবং কর্মকর্তাদের প্রতিটি প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিয়েছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১০-১২ বার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজিরা দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আবারও আসবেন। তবে একই সাথে তদন্ত প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই মামলার এফআইআর চার বছর আগে দায়ের হলেও এবং ২০২২ সালে একাধিক গ্রেফতারি হলেও এখনো কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় চায় নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হোক এবং যোগ্য প্রার্থীরা মেধার ভিত্তিতে চাকরি পান।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও বিরোধীশূন্য করার অভিযোগ
এই জিজ্ঞাসাবাদের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও কেন্দ্রের শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, গত এক মাস ধরে চক্রান্ত, দল ভাঙানো এবং সাংসদ-বিধায়কদের প্রভাবিত করার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে বিরোধীশূন্য করার চেষ্টা চলছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং গণনাকেন্দ্র থেকে বিরোধী এজেন্টদের বলপ্রয়োগ করে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অভিযানের মূল কারণ যেমন আইনি তদন্ত, তেমনই এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে আগামী দিনে রাজ্যে শাসক ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিতে পারে।