ভারত-ফ্রান্স দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত, বাংলায় বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফ্রান্স সফরের আবহেই পশ্চিমবঙ্গে ফরাসি বিনিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ফলপ্রসূ বৈঠকে বাণিজ্য, উদ্ভাবন ও অসামরিক পরমাণু শক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার সমান্তরালে ভারতে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাস এবং ইন্দো-ফরাসি বণিক গোষ্ঠীর प्रतिनिधियों মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গে ফরাসি সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক দরজা উন্মুক্ত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের সুফল ও বাংলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উভয় দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফের ফলে সরাসরি লাভবান হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ। ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের (আইসিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, রাজ্য সরকারের আসন্ন নতুন শিল্প ও আর্থিক নীতি ফরাসি বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করতে পারে। আগামী পাঁচ বছরে ভারত ও ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানের ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে দ্বিগুণ করে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসাই এখন মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণে বিশ্বমঞ্চে বাংলার সম্ভাবনাকে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাণিজ্যিক হাব ও বিনিয়োগের আদর্শ কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে পশ্চিমবঙ্গ ফরাসি বিনিয়োগের অন্যতম সেরা গন্তব্য হয়ে ওঠার দাবি রাখে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজ্যের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। এর পাশাপাশি রাজ্যে বর্তমানে দুই হাজারেরও বেশি স্বীকৃত স্টার্ট-আপ সক্রিয় রয়েছে। উন্নত বন্দর সংযোগ ও ক্রমবর্ধমান স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেমের ফলে রাজ্য থেকে ফ্রান্সে সরাসরি পণ্য রপ্তানির বিপুল সুযোগ তৈরি হয়েছে। সর্বোপরি, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বিমস্টেক (ভারত, মায়ানমার, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ) ভুক্ত দেশগুলোর প্রধান প্রবেশদ্বার বা ‘গেটওয়ে’ হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী ফরাসি বাণিজ্যিক হাব গড়ে ওঠার সম্ভাবনা অত্যন্ত জোরালো।