কুণাল ঘোষের ওপর ডিম হামলা, রাস্তায় হাঁটা দায় বলে সরব ক্ষুব্ধ কল্যাণ!

কলকাতার বুকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের ওপর ডিম ছোড়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই অনভিপ্রেত হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশ্য রাস্তায় একজন জনপ্রতিনিধির ওপর এই ধরনের আক্রমণ রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশের অবনতি এবং বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তার অভাবকেই প্রকট করে তুলেছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও ক্ষোভ
এই ঘটনার পর রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এভাবেই ভয় দেখিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে। প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে ডিম ছুড়ে হামলা চলতে থাকলে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা করাও দায় হয়ে উঠবে। পাশাপাশি পুলিশের চরম নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, পুলিশ কমিশনারকে জানানোর পরও দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকরা কার্যত পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থেকে হামলাকারীদের নির্বিঘ্নে পালাতে সাহায্য করেছেন।
আক্রমণের মুখেও অবিচল কুণাল
হামলার পর কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় আচমকাই তাঁর ওপর ডিম ছোড়া হয় এবং অল্পের জন্য তাঁর বাঁ-চোখ রক্ষা পায়। চোখের সামনে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। তবে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো আঘাতেই তাঁকে থামানো যাবে না। মোড়ে দুষ্কৃতীরা পাথর ও ডিম নিয়ে অপেক্ষা করছে জেনেও তিনি গাড়িতে না উঠে বুক চিতিয়ে হেঁটে এলাকা পার হন। তৃণমূল বিধায়কের এই মন্তব্য বুঝিয়ে দিচ্ছে, শারীরিক আক্রমণ হলেও তিনি রাজনৈতিকভাবে ময়দান ছাড়তে নারাজ।
বিরোধীদের ওপর এমন প্রকাশ্য আক্রমণ রাজ্যের রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশের সামনেই এমন ঘটনা ঘটার কারণে একদিকে যেমন প্রশাসনিক ও আইনি ব্যর্থতা প্রকাশ্যে এসেছে, তেমনই এই ঘটনার প্রভাবে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।