কল্যাণের পর এবার সরলেন বিচারপতি, সই-জাল মামলায় নয়া মোড় কলকাতা হাইকোর্টে!

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই-জাল মামলায় একের পর এক নাটকীয় মোড় তৈরি হচ্ছে। বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানি থেকে নিজেকে অব্যাহতি নিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে মামলাটি পাঠানো হয়েছে, যিনি এখন এটি নির্দিষ্ট কোনো বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠাবেন। একই মামলা নিয়ে একাধিক আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অব্যাহতির কারণ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
সই-জালিয়াতি মামলার তদন্তের সূত্রে সম্প্রতি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় সিআইডি। কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট ও সিজার লিস্ট ছাড়াই সিআইডি জোরপূর্বক কার্যালয়ে প্রবেশ করেছিল—এই অভিযোগ তুলে সিআইডি-র পদক্ষেপের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। চলতি সপ্তাহে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানির কথা ছিল। তবে শুনানির আগেই বিচারপতি ভট্টাচার্য জানান, এই সই-জাল কাণ্ডেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে মামলা দায়ের করেছেন। একই ঘটনার প্রেক্ষিতে যদি দুটি আলাদা বেঞ্চে শুনানি হয়, তবে পরস্পরবিরোধী নির্দেশ আসার সম্ভাবনা থাকে। এই আইনি জটিলতা এড়াতেই তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি নেন এবং জানান যে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসেই এর শুনানি হওয়া উচিত।
মামলার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই মামলার সূত্রপাত সিআইডি-র একটি তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে। কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়া তৃণমূল দফতরে প্রায় দুই ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর অভিযোগে সরব হয়েছিল শাসকদল। অন্যদিকে, এই মামলাতেই রক্ষাকবচ চেয়ে বিচারপতি কৌশিক চন্দের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালত তাঁকে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়ে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত সিআইডি-র কঠোর পদক্ষেপের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। এর আগে এই মামলার আইনি লড়াই থেকে আচমকা সরে দাঁড়ান তৃণমূল সাংসদ তথা সিনিয়র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সমন্বয়ের অভাব এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে অন্য আইনজীবী দিয়ে নতুন রিট পিটিশন দাখিল করার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি।
আইনজীবী ও বিচারপতির পরপর সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় এই মামলার ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণভাবে প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি কোন বেঞ্চে মামলাটি স্থানান্তর করেন এবং সেখান থেকে কী নির্দেশ আসে, তার ওপরই ঝুলে রয়েছে তৃণমূলের কালীঘাট দফতরের তল্লাশি সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ভাগ্য।