ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন রূপকথা লিখলেন ৪০ বছরের ভোজিনহা!

বিশ্ব ফুটবলের মহামঞ্চে অঘটনের ইতিহাস নতুন নয়, তবে কিছু গল্প ছাপিয়ে যায় সব চেনা সমীকরণকে। আটলান্টার রাতে তেমনই এক অবিশ্বাস্য রূপকথার জন্ম দিল আফ্রিকার ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। শক্তিশালী ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটি। আর এই ঐতিহাসিক অর্জনের নেপথ্যে অদম্য দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন দলটির ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। স্প্যানিশ তারকা রদ্রি, পেদ্রি কিংবা লামিন ইয়ামালদের একের পর এক আক্রমণ একাই নসাৎ করে দিয়েছেন এই ‘তরুণ’ গোলকিপার।
কে এই ভোজিনহা এবং নামের পেছনের গল্প
ভোজিনহার আসল নাম জোসিমার জোসে ইভোরা দিয়াজ। ১৯৮৬ সালে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার বর্তমানে পর্তুগালের দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব চাভেসের হয়ে খেলছেন। জাতীয় দলের হয়ে ৯০টিরও বেশি ম্যাচ খেললেও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অভিষেকের জন্য তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ৪০ বছর। তাঁর ‘ভোজিনহা’ নামটি মূলত শৈশবের ডাকনাম, যার পর্তুগিজ অর্থ ‘কণ্ঠস্বর’। ২০১২ সালে অ্যাঙ্গোলার এক ক্লাবে একই নামের অন্য গোলরক্ষক থাকায় বিভ্রান্তি এড়াতে তিনি দাদু-ঠাকুমার দেওয়া এই ডাকনামটি ব্যবহার শুরু করেন। সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাবা এবং কর্মব্যস্ত মায়ের অনুপস্থিতিতে দাদু-ঠাকুমার কাছেই কেটেছে তাঁর কঠিন শৈশব।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও বিশ্ব ফুটবলে এর প্রভাব
পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেন একের পর এক আক্রমণ, হেড, ভলি ও দূরপাল্লার শট নিয়ে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখেছিল। যেখানে কেপ ভার্দে পুরো ম্যাচে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছিল, সেখানে স্পেন আক্রমণের বন্যা বইয়ে দেয়। কিন্তু ফেরান তোরেস, মিকেল ওয়ারজাবাল বা লাপোর্তেদের সাতটি নিশ্চিত গোল করার প্রচেষ্টা অসাধারণ দক্ষতা ও ক্ষিপ্রতায় রুখে দেন ভোজিনহা। ম্যাচের এই ফলের প্রধান কারণ ছিল ভোজিনহার অবিশ্বাস্য ফর্ম, দারুণ রিফ্লেক্স এবং চাপের মুখে কেপ ভার্দে দলের রক্ষণাত্মক রণকৌশল।
এই ড্রয়ের ফলে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূল্যবান দুটি পয়েন্ট হারিয়ে শক্তিশালী স্পেনের পরের রাউন্ডে শীর্ষস্থানে থেকে যাওয়ার পথ কিছুটা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, কেপ ভার্দের মতো ছোট দলের জন্য এই এক পয়েন্ট ঐতিহাসিক অর্জনের সমান, যা আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে আফ্রিকার এই দলটির আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই ম্যাচটি প্রমাণ করল যে, ফুটবলে তারকাখ্যাতি বা পরিকাঠামোই সবসময় শেষ কথা নয়, লড়াকু মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাসও ইতিহাস তৈরি করতে পারে।