রহস্যে ঘেরা অভিনেতা রাহুলের অকালপ্রয়াণ, আড়াই মাস পর তদন্তভার গেল সিআইডির হাতে

রহস্যে ঘেরা অভিনেতা রাহুলের অকালপ্রয়াণ, আড়াই মাস পর তদন্তভার গেল সিআইডির হাতে

টলিউডের জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে অবশেষে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মৃত্যুর আড়াই মাস পার হলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে তীব্র দাবির মুখে দাঁড়িয়ে গত ১৫ জুন অভিনেতার মৃত্যুর তদন্তভার রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বা সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এই মৃত্যুর পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন রাহুলের পরিবার ও টলিপাড়ার কলাকুশলীরা।

গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে ‘ভোলেনাথ পার করেগা’ নামক একটি বাংলা মেগা ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয় ৪২ বছর বয়সী এই অভিনেতের। ড্রোন শটের জন্য সমুদ্রের গভীরে গেলে একটি বড় ঢেউয়ের তোড়ে তিনি তলিয়ে যান। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ফুসফুস ও খাদ্যনালীতে বালি-জল ঢুকে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও, গোটা ঘটনাক্রম নিয়ে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

সুরক্ষাবিধির অভাব ও প্রশাসনের কড়া অবস্থান

রাহুলের পরিবারের অভিযোগ, শুটিংয়ের সময় ন্যূনতম সুরক্ষাবিধি মানা হয়নি। এমনকি স্থানীয় কোস্টাল পুলিশের দাবি, ওই সৈকতে শুটিংয়ের জন্য প্রশাসনের কোনো আগাম অনুমতিও নেওয়া হয়নি। উদ্ধারকাজ থেকে শুরু করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত শুটিং টিমের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এই সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে পূর্ব মেদিনীপুরের একটি প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, ওড়িশা সরকারের বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) পাশাপাশি এ রাজ্যের সিআইডিও এখন এই মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে। এর জন্য মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারকে দ্রুত ফাইল পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নীরব ভোলে বাবা টিম ও প্রিয়াঙ্কার আইনি লড়াই

অভিনেতার এই অকাল প্রস্থানে টলিপাড়ায় এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। রাহুলের স্ত্রী, অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং তাঁদের একমাত্র সন্তান সহজের পাশে দাঁড়িয়েছে গোটা বিনোদন জগৎ। পরিবারের দায়ের করা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলার ভিত্তিতেই সিআইডি তদন্তের এই সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তি এনেছে পরিবারে। তবে ঘটনার পর থেকে ধারাবাহিকের মূল টিম এবং সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছেন। ঘটনার পর থেকে শ্বেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন এবং প্রকাশ্যেও আসেননি। সিআইডি তদন্তের মাধ্যমে শুটিংয়ের পেছনের আসল সত্য এবং কারো গাফিলতি ছিল কি না, তা দ্রুত প্রকাশ্যে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *