তৃণমূল নেতাদের ওপর একের পর এক ডিম হামলা! নীরব কেন পুলিশ?

তৃণমূল নেতাদের ওপর একের পর এক ডিম হামলা! নীরব কেন পুলিশ?

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এক নতুন প্রবণতা ক্রমশ নজরে আসছে। প্রকাশ্য রাস্তায় পুলিশি পাহারায় থাকা তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটছে। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক তৃণমূল নেতা এই আকস্মিক হামলার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনাগুলি একদিকে যেমন জনমানসে জমে থাকা ক্ষোভের ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে পুলিশের ভূমিকা এবং অভিযুক্তদের মানবাধিকার নিয়ে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নিশানায় হেভিওয়েট নেতারা

সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সব্যসাচী দত্ত, বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত, জয়প্রকাশ মজুমদার এবং কুণাল ঘোষের মতো নেতারা জনসমক্ষে ডিম হামলার শিকার হয়েছেন। আদালত চত্বর হোক বা খাস কালীঘাট, এমনকি পুলিশের কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকার সময়েও তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম উড়ে এসেছে। শারীরিক আঘাতের চেয়েও এই ঘটনাগুলিকে রাজনৈতিকভাবে চরম অপমানজনক বলে মনে করা হচ্ছে।

জনরোষ এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

পুলিশের সামনেই এমন হামলা চললেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। হেলমেট ও শিল্ডধারী পুলিশকর্মীরা নিজেদের সুরক্ষায় তৎপর থাকলেও নেতাদের রক্ষায় কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় থেকেছেন বলে অভিযোগ। পুলিশের একাংশ ও প্রাক্তন আধিকারিকদের মতে, এটি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ। জোর করে এই রোষ দমাতে গেলে উল্টে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তবে মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন যে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা এবং পরিকল্পিত হামলার প্রবণতা আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *