৮০ বছরের বৃদ্ধ মা-বাবাকে অনাহারে রেখে নির্যাতন! পাষণ্ড ছেলের বিরুদ্ধে পুলিশি অ্যাকশন

৮০ বছরের বৃদ্ধ মা-বাবাকে অনাহারে রেখে নির্যাতন! পাষণ্ড ছেলের বিরুদ্ধে পুলিশি অ্যাকশন

বার্ধক্যে যে সন্তানের ওপর ভরসা করে মাথা গোঁজার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই নিজের ছেলেই শেষ বয়সে অমানুষিক নির্যাতন শুরু করল জন্মদাত্রী মা-বাবার ওপর। উত্তরপ্রদেশের হাথরাসের সিকান্দ্রারাও কোতোয়ালি এলাকায় এক বৃদ্ধ দম্পতি তাঁদের নিজের ছেলের বিরুদ্ধে গুরুতর হেনস্থা ও অবহেলার অভিযোগ এনে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই মর্মান্তিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিযুক্ত ছেলের বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গের ধারায় মামলা দায়ের করেছে।

অনাহার ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ৮০ বছরের বৃদ্ধ

কোতোয়ালি এলাকার ইকবালপুর গ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী সুখরাম এবং তাঁর ৭০ বছর বয়সী স্ত্রী সাবিত্রী দেবী সোমবার অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় সিকান্দ্রারাও থানায় পৌঁছান। পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে তাঁরা জানান, ভরা সংসার এবং সন্তান থাকা সত্ত্বেও তাঁরা চরম অবহেলা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

বৃদ্ধ দম্পতির অভিযোগের মূল বিষয়গুলি:

  • খাবার না দেওয়া: পরিবারের সদস্যরা তাঁদের ঠিকমতো দু’বেলা খাবার পর্যন্ত দেয় না এবং তাঁদের ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তাগুলিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়।
  • দুর্বিষহ জীবন: বৃদ্ধ সুখরাম জানান যে তাঁর তিন ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে পাপ্পু দিল্লিতে চাকরি করেন, আর বাকি দুই ছেলে অজব সিং ও জিতেন্দ্র সিং গ্রামে থেকে চাষবাস করেন। কিন্তু ছেলেদের এই অমানবিক আচরণ তাঁদের জীবনকে নরকতুল্য করে তুলেছে।

ছানি অপারেশনের পরেই কাঠের উনুনে রান্নার জুলুম

বৃদ্ধা সাবিত্রী দেবী চোখের জল ফেলে পুলিশের কাছে নিজের ওপর হওয়া অত্যাচারের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁর চোখে ছানি অপারেশন (Cataract Surgery) হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে ধোঁয়া ও আগুন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

সাবিত্রী দেবী বলেন, “চোখের এই মারাত্মক অবস্থার মধ্যেও ছেলেরা আমাকে জোর করে কাঠের উনুনে রান্না করতে বাধ্য করে। উনুনের তীব্র ধোঁয়ার কারণে আমার অন্য চোখের দৃষ্টিশক্তিও এখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বয়সে এসে এবং এত শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আমার পক্ষে প্রতিদিন এই ধকল নেওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না।”

কড়া পদক্ষেপ নিল হাথরাস পুলিশ

প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে হাথরাস পুলিশ এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। থানার আধিকারিকেরা উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং প্রাথমিক তদন্তের পর শান্তিভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত ছেলের বিরুদ্ধে আইনি চালান জারি করেছেন। এর পাশাপাশি, পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিবাদ মিটিয়ে প্রবীণ দম্পতি যাতে তাঁদের ন্যায্য অধিকার ও শান্তি ফিরে পান, তার জন্য পুলিশি স্তরে স্থায়ীভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টাও চালানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *