কুণালকে লক্ষ্য করে ডিম! অবশেষে ২ হামলাকারীকে গ্রেফতার করল পুলিশ

কুণালকে লক্ষ্য করে ডিম! অবশেষে ২ হামলাকারীকে গ্রেফতার করল পুলিশ

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সামনে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনায় তীব্র তৎপরতা দেখাল প্রশাসন। এই চাঞ্চল্যকর হামলার অভিযোগে মঙ্গলবার চন্দন কয়াল এবং রবি কয়াল নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে কালীঘাট থানার পুলিশ। সোমবার রাতে খোদ বিধায়ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

অল্পের জন্য রক্ষা পেল চোখ, ক্ষোভ উগরে দিলেন কুণাল

সোমবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে বেরনোর পরই নজিরবিহীন হেনস্থার মুখে পড়তে হয় কুণাল ঘোষকে। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, বাড়ি থেকে বেরনোর পরপরই আচমকা কালো জামা পরা এক যুবক তাঁর সামনে চলে আসে এবং তাঁর মাথা লক্ষ্য করে সজোরে ডিম ছুড়ে মারে।

হামলার বিবরণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে কুণালের ক্ষোভের প্রধান দিকগুলি:

  • চোখ বাঁচল অল্পের জন্য: ডিমটি যেভাবে তাঁর মাথায় এসে লেগেছে, তাতে তাঁর বাঁ চোখটা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে, নতুবা বড়সড় শারীরিক ক্ষতি হতে পারত।
  • নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন: পুরো ঘটনাটিকে ‘অসভ্যতা’ এবং ‘বাঁদরামি’ বলে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি কুণাল প্রশ্ন তোলেন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো জেড ক্যাটাগরির (Z Category) উচ্চ নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও সেখানে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল এবং পুলিশ কেন নিষ্ক্রিয় ছিল, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানান তিনি।

হামলার নেপথ্যে কি বড় চক্রান্ত? বিস্ফোরক সামাজিক পোস্ট

এই ডিম ছোড়ার ঘটনাটি কেবল সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক ক্ষোভ বা ‘জনরোষ’ নয়, বরং এর পেছনে গভীর কোনও চক্রান্ত বা রেইকি (Reconnaissance) কাজ করছিল বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা।

সামাজিক মাধ্যমে একটি বিস্ফোরক পোস্টে কুণাল ঘোষ লেখেন:

“শুনলাম নাকি মমতাদির বাড়ি সিআইডি রেডের (CID Raid) সময় পুলিশের উইটনেস (সাক্ষী) ছিল। সিজার লিস্টেও নাকি ওরই সই। তাহলে কি ওই বাড়িকে ঘিরে হামলার রেইকি করানো হয়েছিল? জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘিরে এসব কী? আজ যারা আক্রমণ করল, গ্রেফতার চাই।”

প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে বরাবরই সরব কুণাল

তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা হয়েও কুণাল ঘোষ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা হেনস্থার রাজনীতিকে কখনও সমর্থন করেন না। নিজের এই নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর যখন বিজেপি কর্মীদের ওপর আক্রমণ হয়েছিল, তখন তিনি নিজে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এমনকি বিজেপি নেতা সজল ঘোষের বাড়ির দরজা ভেঙে পুলিশের ঢোকা কিংবা আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচীকে গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে হেনস্থা করার বিরুদ্ধেও তৃণমূলের মুখপাত্র পদে থেকেও প্রকাশ্যে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি, কারণ তাঁর মনে হয়েছিল ওগুলি অন্যায় কাজ।

কুণাল ঘোষের স্পষ্ট দাবি, তাঁর ওপর হওয়া এই হামলা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি অপরাধ। মঙ্গলবার দুপুরে দুই মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ার পর, এই ষড়যন্ত্রের জল কতদূর গড়ায় এবং এর পেছনে কার মস্তিষ্ক রয়েছে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *