ফলতায় জাহাঙ্গিরের মুক্তির দাবিতে তুমুল রণক্ষেত্র, সেন্ট্রাল ফোর্সের তাড়া খেয়ে সোজা পুকুরে ঝাঁপ বিক্ষোভকারীদের!

গ্রেফতার হওয়া বিতর্কিত নেতা জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরের পর নজিরবিহীন রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। থানা থেকে জোর করে ধৃত নেতাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং ব্যাপক পথ অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। জওয়ানদের লাঠির ঘা থেকে বাঁচতে এবং প্রাণভয়ে বহু বিক্ষোভকারীকে পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পালাতে দেখা যায়।
কোমরে দড়ি বাঁধার ঘটনায় ফুঁসছে অনুগামীরা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ফলতার মল্লিকপুর এলাকার মাহমুদপুর, নওপুকুরিয়া এবং বনহোগলা এলাকায় আচমকাই জাহাঙ্গির খানের সমর্থনে বিক্ষোভ শুরু হয়। ধৃত নেতার স্ত্রীর নেতৃত্বে একদল মহিলা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নামেন।
আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ ও দাবিগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- অপমানের প্রতিবাদ: ধৃত নেতা জাহাঙ্গির খানের কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর তীব্র প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা। শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে এভাবে কোনও ব্যক্তির প্রকাশ্য সম্মানহানি করা যায় না বলে দাবি তোলেন তাঁরা।
- থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা: মিছিল করে এসে বিক্ষোভকারীরা একপ্রকার জোর করেই জাহাঙ্গির খানকে থানা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। থানার মূল গেট ঠেলে ভেতরে ঢোকার উপক্রম হলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা বাধা দেন।
রাস্তা অবরোধ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অ্যাকশন
বিক্ষোভের জেরে ফলতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে এই পথ অবরোধ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফলতা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
পুলিশ প্রথমে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই মারমুখী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে অ্যাকশনে নামে সেন্ট্রাল ফোর্স। জওয়ানরা লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতেই মুহূর্তের মধ্যে বিক্ষোভকারীরা এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন। হুড়োহুড়ির মধ্যে পালানোর অন্য কোনও পথ না পেয়ে বেশ কিছু বিক্ষোভকারী সোজা রাস্তার ধারের বড় পুকুরে ঝাঁপ দেন এবং সাঁতরে ওপাড়ে উঠে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো এলাকা ফাঁকা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে প্রশাসন। বর্তমানে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া টহল দিচ্ছে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী।