মধ্যরাতে রণক্ষেত্র বাগডোগরা বিমানবন্দর, যাত্রী ও স্পাইসজেট কর্মীদের চরম সংঘাত

বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে দিল্লিগামী স্পাইসজেটের একটি উড়ান বাতিলকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ালো যাত্রী এবং বিমান সংস্থার কর্মীদের মধ্যে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষুব্ধ যাত্রী ও বিমান সংস্থার মহিলা কর্মীরা একে অপরের দিকে তেড়ে যান এবং প্রকাশ্যেই গালিগালাজ শুরু করেন। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
১৩ জুন স্পাইসজেটের SG 151 বিমানের বাগডোগরা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। নোমান শেখ নামের এক ভুক্তভোগী যাত্রী জানান, বিকেল ৪টে ১০ মিনিটে বিমানটি ছাড়ার কথা থাকলেও দফায় দফায় সময় পরিবর্তন করা হয়। প্রথমে জানানো হয় রাত ১০টায় বিমান ছাড়বে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই উড়ানটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বিমান বাতিলের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা।
পরিষেবা নিয়ে চরম গাফিলতির অভিযোগ
যাত্রীদের অভিযোগ, ঘন্টার পর ঘন্টা বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখার পর তাঁদের যে খাবার দেওয়া হয়েছিল, তা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং আধসেদ্ধ ভাত ছিল। এর পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের রাতে থাকার জন্যও বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি। চরম অব্যবস্থা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা হাতাহাতি ও গালিগালাজের রূপ নেয়।
আবহাওয়া ও বিমানবন্দরের বিধিনিষেধের যুক্তি
দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে মুখ খুলেছে স্পাইসজেট কর্তৃপক্ষ। একটি বিবৃতি জারি করে বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, মূলত প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দিল্লির বিমানটি বাগডোগরায় অবতরণ করতে না পেরে কলকাতায় ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য হতে হয়। পরবর্তীতে বাগডোগরা বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট ‘ওয়াচ আওয়ার’ বা উড্ডয়ন-অবতরণের সময়সীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকার কারণে উড়ানটি পুরোপুরি বাতিল করতে হয়।
অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে স্পাইসজেট কর্তৃপক্ষ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং গালিগালাজে লিপ্ত থাকা সংশ্লিষ্ট মহিলা কর্মীকে চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু উড়ান ব্যবস্থাপনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য, তবে এই ধরণের অপেশাদার আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।