প্রতিবাদের নামে ট্রেন আটকালেই জেল! রেল অবরোধ রুখতে কড়া নবান্ন

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর রেল ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ইতিবাচক সমীকরণ। সম্প্রতি রাজ্যে রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নে ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণার মাঝেই এবার রেল অবরোধ রুখতে কড়া বার্তার ইঙ্গিত দিল নবান্ন। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বর্তমান প্রশাসন। সেই নীতির আলোকেই এবার থেকে প্রতিবাদের নামে যত্রতত্র রেললাইন অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ালে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইনের কড়াকড়ি ও শাস্তির বিধান
বিক্ষোভের জেরে ট্রেন আটকে দেওয়া, সিগন্যাল ব্যবস্থার ক্ষতি বা রেলের সরঞ্জাম ভাঙচুর রুখতে কড়া আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটবে প্রশাসন। ভারতীয় রেল আইন, ১৯৮৯-এর ১৭৪ ধারা অনুযায়ী ট্রেন চলাচলে বাধা দেওয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাবাস, ২ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে। অতীতে বিভিন্ন আন্দোলনের সময় ট্রেনে আগুন ও ব্যাপক ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছিল। এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ কড়া হাতে দমন করে রেলের সম্পত্তি রক্ষা এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য।
অবরোধের পরিসংখ্যান ও যৌথ পদক্ষেপ
পূর্ব রেলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যাত্রী দুর্ভোগের এই চিত্রটি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। গত অর্থবর্ষে (২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত) পূর্ব রেলের চারটি ডিভিশনে মোট ২৯টি ট্রেন অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র শিয়ালদহ ডিভিশনেই ঘটেছে ২২টি অবরোধ। পাশাপাশি মালদহে ৪টি, হাওড়ায় ২টি এবং আসানসোলে ১টি ঘটনা সামনে এসেছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের কারণেও বহুবার ব্যাহত হয়েছে রেল পরিষেবা। নবান্নের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদের অধিকার সকলের থাকলেও তা জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দপতনের কারণ হতে পারে না। তাই আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে রেল এবং রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।