রাজ্য বাজেটে ব্রাত্য স্বাস্থ্যসাথী, কেন্দ্রের অতি-নির্ভরতা নিয়ে ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রাজ্যের নতুন বাজেট পেশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের পেশ করা নতুন বাজেটকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার একাধিক জনমুখী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং বাজেটে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রভাব নিয়ে নতুন সরকারকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র।
বাজেটে কেন্দ্রের ছায়া ও স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে বিতর্ক
তৃণমূলের মূল অভিযোগ, এই নতুন বাজেটে রাজ্যের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার চেয়ে দিল্লির উপর নির্ভরতা বেশি প্রকট হয়েছে। কুণাল ঘোষের মতে, বাজেট প্রস্তাবে এত বেশিবার কেন্দ্রীয় সরকারের উল্লেখ রয়েছে যে এটিকে রাজ্যের বাজেট না বলে কেন্দ্র-নির্ভর বাজেট বলাই শ্রেয়। বিশেষ করে পূর্বতন সরকারের জনপ্রিয় ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের কোনো উল্লেখ না থাকায় এবং তার বদলে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর ওপর জোর দেওয়ায় ক্ষোভের পারদ চড়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা রাজ্যের সব স্তরের মানুষ পেতেন, কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় গরিব মানুষকে বঞ্চিত করে মুখ্যমন্ত্রী রিলিফ ফান্ডের ওপর নির্ভরশীল করার চেষ্টা হচ্ছে। এছাড়া ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর সর্বজনীন রূপ বদলে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-য় ‘যোগ্য’ শব্দের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।
আয়ের রূপরেখাহীনতা এবং পূর্বতন প্রকল্পের অধিকার দাবি
বাজেটে সিভিক ভলান্টিয়ারদের আয় বৃদ্ধি বা মুড়িগঙ্গা নদীর উপর সেতুর মতো যেসব ইতিবাচক ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলির কৃতিত্বও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বলেই দাবি করেছে তৃণমূল। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, আগের সরকার নিজের আয়ে ‘আত্মনির্ভর বাজেট’ তৈরি করে ১০০টিরও বেশি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালাত। অথচ বর্তমান সরকারের আয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই এবং এরা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় অনুদানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এমনকি সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা বকেয়া থাকার পেছনেও কেন্দ্রের পূর্বতন বৈষম্যমূলক নীতি কাজ করেছিল বলে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এই বাজেটকে জনবিরোধী আখ্যা দিয়ে বিধায়ক মদন মিত্র দাবি করেছেন, এই বাজেট প্রমাণ করে নতুন সরকার সবার বিকাশ নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির স্বার্থরক্ষা করতেই বেশি আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে, স্বাস্থ্য সুরক্ষার অভাব এবং রাজ্যের নিজস্ব আর্থিক কাঠামোর দুর্বলতাই এই বাজেটের সবচেয়ে বড় খামতি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল, যা আগামী দিনে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক ক্ষেত্রে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।