মমতার ছবি বাদ দিয়ে নোভোটেলে বিশেষ অধিবেশন, তৃণমূলের রাশ সম্পূর্ণ হাতে নিতে মরিয়া ঋতব্রতরা!

নিউটাউনের নোভোটেল হোটেলে শুরু হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিশেষ অধিবেশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে তাঁর নিজের তৈরি দলের রাশ সম্পূর্ণ কেড়ে নিতে এবার চূড়ান্ত পদক্ষেপ করতে চলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা। আইনি দিক থেকে সমস্ত দিক মজবুত করেই এই ‘অপারেশন জোড়াফুল’ পরিচালনা করা হচ্ছে।
মমতার ছবিহীন ব্যাকড্রপ ও আইনি প্রস্তুতি
সোমবার বিকেলের এই বৈঠকের জন্য নিউটাউনের নোভোটেল হোটেলের ব্যাঙ্কোয়েট হলটি বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিশেষ অধিবেশনের ব্যাকড্রপে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি রাখা হয়নি। পরিবর্তে সেখানে স্থান পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী এবং বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের ছবি, যা অত্যন্ত অর্থবহ।
এই বড় পদক্ষেপের প্রস্তুতি গত সপ্তাহ থেকেই শুরু হয়েছিল। দিল্লি থেকে দুঁদে আইনজীবীদের কলকাতায় এনে আইনি পরামর্শ নেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এরপর রবিবার রাতে দলের বিদ্রোহী ব্লকের সব বিধায়কের উদ্দেশ্যে হুইপ জারি করেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চিফ হুইপ আখরুজ্জামান। সোমবার দুপুরে বিধানসভায় বাজেটের পর বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে সমস্ত বিদ্রোহী বিধায়ক উপস্থিত হন এবং সেখান থেকেই তাঁদের নোভোটেল হোটেলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দল দখলের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত দলের ওপর নিজেদের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং আইনিভাবে মূল সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়াই এই চরম পদক্ষেপের মূল কারণ। এই বিশেষ অধিবেশন থেকে একটি বড়সড় প্রস্তাব গ্রহণ করা হতে পারে, যেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করবে।
এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পূর্ণ নতুন একটি রাজ্য কর্মসমিতি ঘোষণা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই নতুন কমিটিতে রাজ্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায় এবং গুলাম রব্বানির মতো হেভিওয়েট নেতাদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। এমনকি অরূপ বিশ্বাসের নামও এই তালিকায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে দলটির সাংগঠনিক কাঠামোয় এক বড় ধরনের রদবদল ঘটতে চলেছে।