দিল্লির রাজনীতিতে শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক, মোদী-শাহের দরবারে কতটা বাড়ল বাংলার গুরুত্ব?

দিল্লির রাজনীতিতে শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক, মোদী-শাহের দরবারে কতটা বাড়ল বাংলার গুরুত্ব?

তৃণমূলের ২০ জন সাংসদকে এনডিএ জোটে টেনে এনে জাতীয় রাজনীতিতে এক বিরাট রদবদল ঘটিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোদী-শাহের এই কঠিন সময়ে নতুন ২০ জন এবং বিজেপির নিজস্ব ১২ জন নির্বাচিত সাংসদকে মিলিয়ে মোট ৩২ জনের এক শক্তিশালী ‘বেঙ্গল ব্লক’ তৈরি করেছেন তিনি। এই মেগা অপারেশনের ফলে দিল্লির বুকে শুভেন্দুর রাজনৈতিক ওজন আকাশছোঁয়া হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে বাংলার প্রভাবও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পনেরো বছরের পুরনো সমীকরণের পুনরাবৃত্তি

প্রায় পনেরো বছর আগে তৎকালীন ইউপিএ সরকারে ২০ জন সাংসদ নিয়ে ঠিক যে রাজনৈতিক গুরুত্ব উপভোগ করত তৃণমূল, আজ সেই চেনা সমীকরণকেই যেন ফিরিয়ে আনলেন শুভেন্দু। কাকতালীয়ভাবে, সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী হন, তাঁর বয়স এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বয়স একই— ৫৫ বছর। এই ঐতিহাসিক সমীকরণ ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে দিল্লির বুকেও শুভেন্দুকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। মোদী-শাহের কাছে তিনি এখন সবচেয়ে বিশ্বস্ত বাজি।

মন্ত্রিত্বের দৌড়ে কারা এগিয়ে?

নতুন যোগ দেওয়া এই ২০ জন সাংসদ নিয়ে গঠিত বিদ্রোহী ব্লক (এনসিপিআই) থেকে কেউ মন্ত্রী হবেন কি না, তা নিয়ে বিস্তর ধোঁয়াশা রয়েছে। দলটির ভেতরে লোকসভার দলনেতা বা মুখ্য সচেতক পদ নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন এবং সর্বজনগ্রাহ্য একক নেতার অভাবে তাদের দরকষাকষির ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল। ফলে মন্ত্রিত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি-র সমসংখ্যক সাংসদ থাকলেও, এই দলবদলকারী নেতাদের ক্ষেত্রে মোদী-শাহের সমীকরণ ভিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবার এক বা দু’জনকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী বা পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে। বর্তমানে রাজ্য থেকে সুকান্ত মজুমদার এবং শান্তনু ঠাকুর প্রতি মন্ত্রী হিসেবে থাকলেও, পূর্ণ মন্ত্রীর দৌড়ে রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *