ভরাডুবির পর তৃণমূলের খাঁড়া, কুণাল-রাজীবদের কাঁধেই ফিরল উত্তর ও হাওড়ার ব্যাটন

ভরাডুবির পর তৃণমূলের খাঁড়া, কুণাল-রাজীবদের কাঁধেই ফিরল উত্তর ও হাওড়ার ব্যাটন

বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর দলীয় সংগঠনে বড়সড় রদবদল ঘটাল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও বিদ্রোহ সামাল দিতে মঙ্গলবার জেলা স্তরে একঝাঁক পরিবর্তন এনেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই রদবদলে স্পষ্ট যে, কঠিন সময়ে নতুন বা তরুণ মুখের চেয়ে পুরনো, অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত সেনানীদের ওপরই বেশি ভরসা রাখছে ঘাসফুল শিবির।

সাম্প্রতিক এই রদবদলে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে উত্তর কলকাতা ও হাওড়ায়। উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণাল ঘোষকে। অন্যদিকে, হাওড়া সদর জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক অরূপ রায়কে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দক্ষিণ কলকাতায় দীর্ঘদিনের সভাপতি দেবাশিস কুমারকে সরিয়ে সেই পদে আনা হয়েছে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে। এছাড়া ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলায় পার্থ ভৌমিকের জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন অমিত গুপ্ত এবং দার্জিলিং জেলার চেয়ারম্যান করা হয়েছে অভিজ্ঞ নেতা গৌতম দেবকে।

ভরাডুবির খেসারত ও দেবাংশুর ওপর অনাস্থা

হুগলি ও শ্রীরামপুর জোনেও বড়সড় রদবদল ঘটেছে। শ্রীরামপুর-হুগলি সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন প্রবীণ নেতা অসিত মজুমদার। গত নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তাঁর পরিবর্তে দলের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করা হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের খবর, নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন দেবাংশু, এমনকি তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন না তিনি। এর ফলেই তাঁর ওপর থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব আস্থা হারিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুরনোতেই ভরসা এবং আগামী দিনের প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভেতরের কোন্দল মেটাতে এবং সংগঠনকে নতুন করে চাঙ্গা করতেই প্রবীণ ও পরীক্ষিত নেতাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনের মূল কারণ হলো নিচু তলার কর্মীদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ প্রশমন করা এবং দলের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে রাখা।

এই রদবদলের ফলে আগামী দিনে জেলা স্তরের রাজনীতিতে পুরনো নেতাদের আধিপত্য আরও বাড়বে। তবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, কোন্দলে জর্জরিত কর্মীদের এক ছাতার তলায় এনে আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য দলকে পুনরুজ্জীবিত করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *