দেশ ছাড়ার পথ বন্ধ, অভিষেকের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে সিআইডির লুক আউট নোটিস!

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি বিড়ম্বনা ক্রমশ বাড়ছে। এবার তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ‘লুক আউট নোটিস’ জারি করল রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে আদালতে সুমিতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। আর তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর দেশ ছেড়ে পালানোর পথ বন্ধ করতে এই কড়া পদক্ষেপ নিল সিআইডি। এর ফলে দেশের যে কোনও বিমানবন্দর বা বন্দর দিয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করলেই তাঁকে তৎক্ষণাৎ আটক করা হবে।
মরিয়া তল্লাশি ও আগাম জামিনের আবেদন
সম্ভাব্য গ্রেফতারি এড়াতে ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন সুমিত রায়। অন্যদিকে, গত কয়েক দিন ধরে তাঁর খোঁজে মরিয়া তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। সুমিতের মোবাইলের শেষ টাওয়ার লোকেশন ট্রেস করে গত শনিবার ভোরে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পৌঁছে যায় শালবনি থানার পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করলেও সুমিতের কোনও হদিস মেলেনি। একই দিনে হুগলির শ্রীরামপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে সমান্তরাল অভিযান চালিয়েও পুলিশ খালি হাতে ফেরে।
বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
একদিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলির ধারাবাহিক জেরা, আর অন্যদিকে আপ্তসহায়কের এই রহস্যময় অন্তর্ধান রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশি অভিযানের ব্যর্থতা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সিআইডির এই লুকআউট নোটিস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার এই ক্রমিক কড়াকড়ি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।