আবেদন করলেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নয়, তাড়াহুড়ো না করে যাচাই প্রক্রিয়ায় জোর মুখ্যমন্ত্রীর

আবেদন করলেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নয়, তাড়াহুড়ো না করে যাচাই প্রক্রিয়ায় জোর মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া তিনদিনের জনকল্যাণ শিবিরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস ও ভিড় এখন তুঙ্গে। গত দু’দিনে রাজ্যজুড়ে প্রায় ২,০৫০টি শিবিরে প্রায় ২৪ লক্ষ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে এসেছেন। এই ব্যাপক ভিড় এবং বিশেষ করে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে জেলাশাসকদের সঙ্গে জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কার্শিয়াং সফর শেষে নবান্নে ফিরেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অন্নপূর্ণা যোজনায় ফর্ম পূরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে না। প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতেই বর্তমানে কঠোর যাচাই বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

জনকল্যাণ শিবিরে উপভোক্তাদের দুর্ভোগ এড়ানোর নির্দেশ

তীব্র গরমের মধ্যে শিবিরে এসে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকরা যাতে কোনোভাবেই ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, জনকল্যাণ শিবির মানুষের সুবিধার জন্য তৈরি করা হয়েছে, কাউকে হয়রানি করার জন্য নয়। গরমের কারণে শিবিরে প্রয়োজনীয় পানীয় জল ও ছায়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। তালিকায় নাম থাকুক বা না থাকুক, শিবিরে আসা কোনো মানুষকে খালি হাতে ফেরানো যাবে না। এমনকি বিধবা ভাতা বা বার্ধক্য ভাতার আবেদন আপাতত বন্ধ থাকলেও, আবেদনকারীদের ফর্ম দিতে হবে এবং পরবর্তীতে এই বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।

বাড়ি বাড়ি যাবেন সরকারি কর্মীরা

প্রবীণ নাগরিকদের রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রবীণদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, শিবিরে আসার জন্য তাঁদের শারীরিক কষ্ট করার প্রয়োজন নেই। শিবির শেষ হওয়ার পর সরকারি কর্মীরা নিজেই প্রবীণ নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদনপত্র পৌঁছে দেবেন এবং তা পূরণে সরাসরি সাহায্য করবেন।

আবেদনের সত্যতা যাচাই ও সম্ভাব্য প্রভাব

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনায় ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৩ লক্ষ আবেদনকারীর তথ্য ভেরিফাই বা যাচাই করা হয়ে গিয়েছে। ফর্ম জমা পড়ার পরপরই টাকা অ্যাকাউন্টে না যাওয়ার মূল কারণ হলো, রাজ্য প্রশাসন নিশ্চিত করতে চায় যেন কোনো ভুয়ো আবেদনকারী এই সুবিধার আওতায় না আসে। শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরাই যাতে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতেই এই স্ক্রুটিনি বা যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন সরকারি তহবিলের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছেই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছাবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমস্ত প্রকল্প সম্পর্কে শিবিরে আসা সাধারণ মানুষকে বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে সচেতন করার জন্য তিনি প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *