উত্তরে ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা, দক্ষিণবঙ্গে চাতকের অপেক্ষা কবে শেষ হবে?

নির্ধারিত সময়ে বর্ষা প্রবেশ করলেও জুনের প্রথম দুই সপ্তাহে বৃষ্টির বড়সড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। উত্তরবঙ্গে যখন লাগাতার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে, তখন দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। তীব্র গরম আর বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কারণে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের নাজেহাল অবস্থা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে এখনই ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, তবে আগামী ২০ জুন থেকে হালকা থেকে মাঝারি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে।
বর্ষার গতি থমকে যাওয়ার কারণ
আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনো পরিস্থিতির কারণে এবার দেশের মধ্য ভারত ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম হচ্ছে। মধ্য ভারতে মৌসুমি বায়ু দুর্বল থাকার কারণে উত্তর-পশ্চিম ভারতের দিকে পশ্চিমি ঝঞ্ঝার সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্প সরাসরি উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলে ধাক্কা খাচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ি এলাকায় শক্তিশালী মেঘপুঞ্জ তৈরি হয়ে অতিভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এই মৌসুমি বায়ু মধ্য ও উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে এখনও পুরোপুরি প্রবেশ করতে না পারায় দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা এসেও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
দুই বঙ্গের আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব
এই আবহাওয়ার জেরে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে সম্পূর্ণ বিপরীত প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। সেখানে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা যেমন থাকছে, তেমনই সমতলে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তীব্র অস্বস্তিকর গরমের কারণে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ বাকি জেলাগুলিতেও আপাতত এই গুমোট গরম বজায় থাকবে, যা জনজীবনকে ব্যাহত করতে পারে। তবে উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে দমকা হাওয়া সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।