হার মেনে নিতে পারছেন না মমতা, ভবানীপুর মামলা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ দিলীপের

হার মেনে নিতে পারছেন না মমতা, ভবানীপুর মামলা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ দিলীপের

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালতের দ্বারস্থ হওয়াকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বুধবার তিনি দাবি করেন, তৃণমূল নেত্রী এখনও পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না এবং তাঁর এই আইনি পদক্ষেপ আসলে রাজনৈতিক হতাশারই বহিঃপ্রকাশ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হওয়ার পরও মমতার এই মরিয়া ভাবকে কটাক্ষ করে দিলীপ জানান, তৃণমূল সুপ্রিমোর হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে রাজ্যে এখনও যেন নির্বাচন পর্বই চলছে।

নির্বাচনী ফল এবং দিলীপের খোঁচা

বিগত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হন এবং পরবর্তীতে তিনি ভবানীপুর আসনটিই নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এই কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছিলেন ৭৩,৯১৭টি ভোট, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পান ৫৮,৮১২টি ভোট। এই বড় ব্যবধানের পরাজয়ের পর পুনর্গণনা ও পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলে মমতার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করাকে নিশানা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূল এখন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত এবং যখনই নেতৃত্ব সংকটে পড়ে, তখনই আদালতের শরণাপন্ন হওয়া তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার জেরে আগামী দিনে আদালতের ভেতরে ও বাইরে শাসক দলের অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পাল্টা বিতর্ক

শুধু নির্বাচনী মামলা নয়, শাসক দলের অভ্যন্তরীণ তীব্র কোন্দল নিয়েও প্রকাশ্যেই মুখ খুলেছেন দিলীপ ঘোষ। লোকসভার বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দলীয় সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের আনা অসদাচরণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগকে সামনে এনে তিনি দাবি করেন, দলের অন্দরে ক্ষোভ থাকলেও কল্যাণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি লিখে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহিষ্কার দাবি করলেও, কল্যাণ এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষপ্রসূত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, একদিকে নির্বাচনী পরাজয়ের ধাক্কা সামলানো এবং অন্যদিকে দলের শীর্ষ স্তরের এই প্রকাশ্য বিবাদ ও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি তৃণমূলের সাংগঠনিক ভাবমূর্তিকে জনসাধারণের সামনে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *