জি-৭ সম্মেলনে মেলোনিকে চুম্বনের চেষ্টা জেলেনস্কির! আন্তর্জাতিক মঞ্চে তীব্র অস্বস্তি

জি-৭ সম্মেলনে মেলোনিকে চুম্বনের চেষ্টা জেলেনস্কির! আন্তর্জাতিক মঞ্চে তীব্র অস্বস্তি

ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে এক চরম অস্বস্তিকর মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। পাশ্চাত্য রীতি অনুযায়ী পরস্পরকে গালে গাল ঠেকিয়ে অভিবাদন জানাতে গিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে একটি অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা আপাতদৃষ্টিতে ঠোঁটঠাসা চুম্বনের চেষ্টার মতো দেখায়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা।

কূটনৈতিক শিষ্টাচার বনাম অনভিপ্রেত মুহূর্ত ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সম্মেলনের ফাঁকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েনের সঙ্গে কথা বলছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। ঠিক সেই সময় সেখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। হঠাৎ দেখা হওয়ায় দুই রাষ্ট্রপ্রধান একে অপরকে অভিবাদন জানাতে এগিয়ে আসেন। মেলোনি সামনে আসতেই জেলেনস্কি তাকে চুম্বনের জন্য উদ্যত হন, যা পরিস্থিতিকে কিছুটা জটিল করে তোলে। তবে মেলোনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে এবং দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে নিয়ে পাশ্চাত্য ঐতিহ্য অনুযায়ী গালে গাল ঠেকিয়ে অভিবাদন পর্ব শেষ করেন এবং সেখান থেকে সরে যান।

সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের মধ্যে নানা ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। অনেকেই শীর্ষ সম্মেলন বা এই ধরনের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের এই আচরণকে অসংযত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেছেন। সমালোচকদের মতে, যখন নিজ দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিদ্যমান, তখন এই ধরনের শীর্ষ ফোরামে এসে এমন লঘু আচরণ বিশ্বমঞ্চে জেলেনস্কির কূটনৈতিক ভাবমূর্তিকে কিছুটা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। অন্যদিকে জর্জিয়া মেলোনির তাৎক্ষণিক ও সংযত প্রতিক্রিয়া তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে এই অস্বস্তির পাশাপাশি সম্মেলনটিতে জর্জিয়া মেলোনি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার কুশল বিনিময় ও রসিকতা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ ইতিবাচক ও ভিন্নভাবে চর্চিত হচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পূর্বের অস্বস্তিকর আবহকে অনেকটাই স্বাভাবিক করে তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *