টেলিগ্রাম ব্যানের নেপথ্যে মেটা ও রিলায়েন্সের ষড়যন্ত্র, বিস্ফোরক দাবি পাভেল দুরভের

টেলিগ্রাম ব্যানের নেপথ্যে মেটা ও রিলায়েন্সের ষড়যন্ত্র, বিস্ফোরক দাবি পাভেল দুরভের

নিট ইউজি ২০২৬-এর পুনঃপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জালিয়াতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব রুখতে ভারতে টেলিগ্রাম অ্যাপের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্র। এই নিষেধাজ্ঞার পরই এক বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন টেলিগ্রামের সিইও পাভেল দুরভ। তাঁর অভিযোগ, এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে রয়েছে মূল প্রতিযোগী হোয়াটসঅ্যাপের মালিকাধীন সংস্থা মেটা এবং ভারতীয় টেলিকম জায়ান্ট রিলায়েন্সের যৌথ চক্রান্ত। তবে টেলিকম খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও পাভেলের দাবি

এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে পাভেল দুরভ দাবি করেছেন, ‘বিজিপি হাইজ্যাকিং’-এর মতো অনৈতিক পদ্ধতি অবলম্বন করে ভারতের বাইরের লক্ষ লক্ষ ইউজারের টেলিগ্রাম ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করেছে রিলায়েন্স। তাঁর মতে, মেটার আংশিক মালিকানা রিলায়েন্সের হাতে থাকায় ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেই এই চক্রান্ত করা হয়েছে। ভারতের বাইরে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশেও টেলিগ্রামের পরিষেবা ব্যাহত করার পেছনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং রিলায়েন্স এ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অভিযোগ খণ্ডন ও আসল তথ্য

দুরভের এই বিস্ফোরক দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের টেলিকম খাতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টেলিগ্রাম সিইও মূলত ‘রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস’-এর সাথে ‘রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ (আরআইএল)-কে গুলিয়ে ফেলেছেন। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিটাল শাখা ‘জিও’-তে মেটার সামান্য অংশীদারিত্ব থাকলেও, সমুদ্রতল দিয়ে যাওয়া সাব-সি কেবলগুলি পরিচালনা করে সম্পূর্ণ আলাদা একটি গোষ্ঠী, যা আরআইএলের অংশ নয়। ফলে ব্যবসায়িক স্বার্থে টেলিগ্রাম ব্লক করার অভিযোগটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক।

নিষেধাজ্ঞার কারণ ও প্রভাব

আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নিট-ইউজির পুনঃপরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রতারণা রুখতেই মূলত কেন্দ্র এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। গুগল ও অ্যাপলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা আগামী ২২ জুন পর্যন্ত তাদের অ্যাপ স্টোর থেকে টেলিগ্রাম অ্যাপটি সরিয়ে রাখে। টেলিগ্রামে ‘পেপার লিকড লিট’, ‘রি-নিট ২০২৬’-এর মতো একাধিক চ্যানেলের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে জাল প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছিল। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) বিষয়টিকে স্পষ্ট প্রতারণা বলে ঘোষণা করার পর দেশজুড়ে এই জালিয়াতি রুখতেই সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে টেলিগ্রাম। এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেই দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *