মেধাবী রিয়ার আত্মহনন, নিট প্রশ্নফাঁসের মানসিক চাপ কি কাড়ল আরও এক প্রাণ

দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু দেশজুড়ে সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট)-র প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং সেই সংক্রান্ত চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা কেড়ে নিল উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের এক মেধাবী তরুণীর প্রাণ। সুইসাইড নোটে মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা ও নিজের ‘অযোগ্যতা’র কথা লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ২৩ বছর বয়সী নিট পরীক্ষার্থী রিয়া কুমারী থাপা। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের এক সেনানায়কের মেয়ের এই চরম পরিণতিতে দেশজুড়ে পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিট কেলেঙ্কারির ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দেরাদুন পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে রিয়ার ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। বারবার ডাকাডাকির পরও সাড়া না মেলায় শেষমেশ দরজা ভাঙা হলে তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। দেরাদুনের পুলিশকর্তা অঙ্কিত কাণ্ডারি জানিয়েছেন, সুইসাইড নোটে রিয়া লিখেছেন, “মা, বাবা, আমি তোমাদের ভালোবাসি। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দোষী নয়।” পরীক্ষায় আশা অনুযায়ী ফল করতে না পারাকেই নিজের এই চরম সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রিয়া।
মেধার অপচয় ও পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা
দ্বাদশের পরীক্ষায় ৯৭ শতাংশ পাওয়া একজন মেধাবী ছাত্রী কেন নিজেকে ‘অযোগ্য’ ভাবলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। দেশজুড়ে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আগামী ২১ জুন পুনরায় যে পরীক্ষা হওয়ার কথা, তার জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রিয়া। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রথমবার ভালো পরীক্ষা দিয়েও প্রশ্নফাঁসের জেরে পরীক্ষা বাতিল হওয়া এবং পুনরায় বসার মানসিক চাপ নিতে পারেননি এই তরুণী। একদিকে কঠোর পরিশ্রমের পর কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া, অন্যদিকে গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর তৈরি হওয়া অনাস্থা ও গভীর অবসাদই তাঁকে এই আত্মহননের পথে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরীক্ষার্থীদের মানসিক সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনা নিট কেলেঙ্কারির সামাজিক ও মানসিক প্রভাবকে আরও একবার নগ্ন করে দিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বারংবার পরীক্ষা বাতিলের মতো ঘটনা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ভবিষ্যৎ অনশ্চয়তা, হতাশা ও তীব্র হীনম্মন্যতার জন্ম দিচ্ছে। মেধার চেয়ে দুর্নীতি যখন বড় হয়ে ওঠে, তখন সৎ ও কঠোর পরিশ্রমী ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। রিয়ার এই মর্মান্তিক মৃত্যু আগামী দিনে জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলোর স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়াবে, পাশাপাশি দেশজুড়ে পরীক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং ও মানসিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে অত্যন্ত জরুরি করে তুলেছে।