বেসরকারি স্কুলে সন্তান পড়লে কি মিলবে না অন্নপূর্ণার টাকা, ধোঁয়াশা কাটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে আমজনতার মনে তৈরি হওয়া যাবতীয় জল্পনা ও প্রশ্নের অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ফলতার এক সরকারি অনুষ্ঠান থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সন্তান কোন ধরনের স্কুলে পড়াশোনা করছে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে। সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলের পড়ুয়াদের অভিভাবকরা এই সুবিধা পেলেও, সমস্ত বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের পরিবারই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাসিক ৩ হাজার টাকা পাবেন।
যাচাইয়ের কড়া দাওয়াই
ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। তবে এই প্রকল্পের আবেদনপত্রে পরিবারের জমির পরিমাণ, কোভিড টিকা এবং সন্তানের স্কুলের নামসহ খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হচ্ছিল। এতে সাধারণ মানুষের মনে ধারণা তৈরি হয় যে, নির্দিষ্ট আয়ের উর্ধ্বে থাকা পরিবারগুলি হয়তো এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী এই কঠোর স্ক্রিনিং বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, আগের সরকারের আমলে এই ধরনের প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি উল্লেখ করেন, মুর্শিদাবাদেই সাড়ে ৪ হাজারের বেশি পুরুষ নিয়মবহির্ভূতভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন। সেই জালিয়াতি রুখতেই এবার আবেদনকারীদের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাছাই করা হচ্ছে।
কারা পাবেন আর কারা বাদ পড়বেন
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ১ কোটিরও বেশি জমা পড়া আবেদনপত্রের মধ্যে থেকে যোগ্যদের বেছে নেওয়া হচ্ছে। সরকারি ও অনুমোদিত বেসরকারি স্কুলের পাশাপাশি যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মূল ধারার বাইরে গিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় কিংবা দেশবিরোধী কথা শেখানো হয়, সেইসব স্কুলের পড়ুয়াদের অভিভাবকরা এই ভাতার আওতাভুক্ত হবেন না। এর পাশাপাশি, করোনাকালে যারা সরকারি নির্দেশিকা মেনে টিকা নেননি, তারাও এই ৩ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান থেকে বঞ্চিত হবেন। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন ভুয়ো আবেদনকারীদের বাদ দেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে তেমনই সরকারি কোষাগারের অর্থের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।