হামলাকারীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম হবে! ফলতার ঘটনায় এসপি-কে কড়া নির্দেশ পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দুর

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ফলতার এক জনকল্যাণ শিবির থেকে জেলা পুলিশ সুপারকে (SP) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, যারা এই অশান্তির সাথে যুক্ত, তাদের শুধু জেলের ভাত খাওয়ানো নয়, বরং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা প্রকাশ্য নিলামে তুলবে ডাবল ইঞ্জিন সরকার।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় দেশদ্রোহিতার মামলা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাহাড়ে বসেই তিনি টেলিভিশনের মাধ্যমে ফলতার মল্লিকপুরে এক ‘মাফিয়ার স্ত্রী’-র নেতৃত্বে পুলিশ ও প্যারা-মিলিটারির ওপর আক্রমণের চেষ্টা দেখেছিলেন। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রধান নির্দেশিকাগুলি হলো:
- ভিডিও দেখে চিহ্নিতকরণ: সিসিটিভি বা ভাইরাল ভিডিও ফুটেজে যাদেরই পুলিশের ওপর হামলা চালাতে দেখা গিয়েছে, পুলিশ যেন তাদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনে। অভিযুক্তরা যেন কোনওভাবেই বাড়িতে থাকতে না পারে।
- কঠোর ধারায় মামলা: সরকারি কর্মচারী, পুলিশ বা প্যারা-মিলিটারি বাহিনীর ওপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে ‘भारतीय न्याय संहिता’ (BNS)-র অন্তর্গত রাষ্ট্রবিরোধী বা দেশদ্রোহী কার্যকলাপের ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন দুঃসাহস দেখাতে না পারে, তার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলামের হুঁশিয়ারি
বাংলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এই নতুন সরকারের একমাত্র লক্ষ্য জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনারা জানলে খুশি হবেন, আমাদের ডাবল ইঞ্জিন সরকার শুধুমাত্র জেলের ভাত খাইয়ে শান্ত থাকবে না। যারা প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেছে, তাদের চিহ্নিত করে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং সেই সমস্ত সম্পত্তি নিলামে তোলার কাজ করবে সরকার।”
রেজিনা বিবির বিরুদ্ধে মামলা ও ৭ জন গ্রেফতার
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ফলতায় ধৃত নেতা জাহাঙ্গীর খানকে থানা থেকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ছক কষার অভিযোগ ওঠে তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেজিনা বিবির নেতৃত্বে একদল মহিলা ও স্থানীয় বাসিন্দা পথ অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ শুরু করলে বিক্ষোভকারীরা জুতো-চটি ফেলে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পালান, যার ভিডিও ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে রেজিনা বিবি সহ মূল অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে এখনও পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।