‘মাথায় তৃণমূল ঢুকে আছে?’ জনকল্যাণ শিবিরে আধিকারিককে তীব্র ভর্ৎসনা মন্ত্রী জগন্নাথের!

‘মাথায় তৃণমূল ঢুকে আছে?’ জনকল্যাণ শিবিরে আধিকারিককে তীব্র ভর্ৎসনা মন্ত্রী জগন্নাথের!

রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর প্রচারে গাফিলতির অভিযোগে সিউড়ি পুরসভার এক শীর্ষ আধিকারিককে জনসমক্ষে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সরকারি প্রকল্পের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সংবলিত ব্যানার যথাযথভাবে না টাঙানোয় ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বুধবার সিউড়ির সিধোকানহু মঞ্চে আয়োজিত শিবিরে এই ঘটনার জেরে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ব্যানার বিতর্কে মন্ত্রীর ক্ষোভ

গত ১৫ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জনকল্যাণ শিবিরের সূচনা হয়েছে। এদিন সিউড়ি শহরের ১৩, ১৪, ১৫ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য আয়োজিত শিবির পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। শিবিরের প্রবেশপথে প্রচারমূলক ব্যানারগুলোর বেহাল প্রদর্শন দেখেই তিনি মেজাজ হারান। সিউড়ি পুরসভার ফিনান্স অফিসারকে ডেকে তিনি স্পষ্ট জানতে চান, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ছবি হজম করতে তাঁর কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না। শিবিরের ব্র্যান্ডিংকে ‘সব থেকে খারাপ’ আখ্যা দিয়ে ওই আধিকারিককে কার্যত ধমকের সুরে মন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “এখনও মাথায় তৃণমূল ঢুকে আছে নাকি?”

প্রশাসনিক প্রভাব ও পূর্ববর্তী বিতর্ক

সরকারি আধিকারিককে মন্ত্রীর এই প্রকাশ্য ভর্ৎসনার একটি স্পষ্ট প্রশাসনিক বার্তা রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পগুলির রূপায়ণ ও প্রচারে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের কড়া নজরদারির বিষয়টিই সামনে এসেছে। অতীতের রাজনৈতিক আনুগত্য বা প্রভাব থেকে বেরিয়ে আধিকারিকদের যে দ্রুত নিরপেক্ষভাবে সরকারি নির্দেশিকা পালন করতে হবে, এই ধমক তারই ইঙ্গিতবাহী। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে কড়া বার্তা দিতে গিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের “স্যাটা গরম করে দেব” মন্তব্য সমাজমাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সরকারি আধিকারিককে তাঁর এই প্রকাশ্য ভর্ৎসনা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *