পাঁচ লাখ টাকায় মিলেছিল সরকারি চাকরি, দু’মাসেই বেকার হয়ে থানায় সর্বস্বান্ত পরিবার

পাঁচ লাখ টাকায় মিলেছিল সরকারি চাকরি, দু’মাসেই বেকার হয়ে থানায় সর্বস্বান্ত পরিবার

টাকার বিনিময়ে চাকরি এবং মাত্র দুই মাসের মাথায় সেই চাকরি বাতিলের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং এলাকার বাসিন্দা বিকাশ কুমার টুং তাঁর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার নামে পাঁচ লক্ষ টাকা প্রতারণার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় থানায়। এই ঘটনায় কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ডা. মানস রঞ্জন ভুঁইয়া এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ দুই স্থানীয় তৃণমূল নেতাকে। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে মানস ভুঁইয়ার পদত্যাগের পরপরই এই আইনি পদক্ষেপ ঘটনাটিকে এক ভিন্ন রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিকাশ কুমার টুঙের স্ত্রী মঞ্জু সাহু টুংকে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। অভিযোগ, তৎকালীন মন্ত্রী ডা. মানস রঞ্জন ভুঁইয়ার মধ্যস্থতায় এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আবু কালাম বক্স ও ভোলানাথ দের সক্রিয় সহযোগিতায় পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এই চাকরির রফা হয়। পরবর্তীতে গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি বেসরকারি সংস্থার অধীনে সেচ বাংলোয় ‘স্টুয়ার্ড’ পদে কাজে যোগ দেন মঞ্জু সাহু। কিন্তু মাত্র দুই মাস পরেই আকস্মিকভাবে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে তাঁর চাকরি বাতিলের নির্দেশ পাঠানো হয়, যা এই দরিদ্র পরিবারটিকে চরম সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বনাম দুর্নীতির অভিযোগ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নিষ্কলঙ্ক ভাবমূর্তি তুলে ধরে প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া একে একটি ‘ভয়ঙ্কর চক্রান্ত’ এবং ‘প্রতিশোধস্পৃহা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর দাবি, বিগত ৫৬ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর বিরুদ্ধে কখনও কোনো দুর্নীতির আঙুল ওঠেনি। তৃণমূল ত্যাগের পর সুপরিকল্পিতভাবে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কালিমালিপ্ত করতেই এই সাজানো অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে বর্তমান বিধায়ক অমল পণ্ডার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আইন ও সত্যের ওপর পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করেছেন।

তদন্ত ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব

সবং থানার পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্তে নেমেছে। প্রাথমিক তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। একদিকে যেমন এটি স্থানীয় স্তরে দলত্যাগী নেতাদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদাহরণ হিসেবে চর্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে, অভিযোগকারী পরিবারের গৃহবধূর তীব্র মানসিক অবসাদ গ্রামীণ জনপদে এক গভীর সামাজিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *