রাম মন্দিরে কোটি কোটি টাকা চুরির অভিযোগে তোলপাড়, চরম অস্বস্তিতে বিজেপি!

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকা চুরির অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রামভক্তদের আবেগে আঘাত হানার পাশাপাশি এই ঘটনা শাসক দল বিজেপির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্বস্তি ডেকে এনেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যখন মন্দির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রথম সারির বিজেপি নেতারাই খোদ মন্দির পরিচালন ট্রাস্টের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বিরোধী শিবিরের সমালোচনার মাঝেই দলের প্রবীণ নেতাদের এমন বেফাঁস মন্তব্য পদ্ম শিবিরকে চরম বিড়ম্বনায় ফেলেছে।
নেতাদের তীব্র ক্ষোভ ও ট্রাস্টের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ রাম মন্দির আন্দোলনের অন্যতম অগ্রণী মুখ তথা অযোধ্যার প্রাক্তন সাংসদ বিনয় কাটিহার সরাসরি মন্দির ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের ‘চোর’ বলে আখ্যা দিয়ে তাঁদের অবিলম্বে অপসারণের দাবি তুলেছেন। তাঁর দাবি, বর্তমান ট্রাস্ট যেভাবে মন্দির পরিচালনা করছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তারা প্রবীণ নেতাদের ন্যূনতম সম্মান ও যোগাযোগটুকুও রাখছে না। তাঁর এই বিস্ফোরক সুরেই সুর মিলিয়েছেন গোন্ডার প্রাক্তন সাংসদ ও বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ব্রিজভূষণ শরণ সিং। তিনি কাটিহারের বক্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, অভিযুক্তরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই সত্যিটা প্রকাশ্যে বলার সাহস পাচ্ছেন না।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব প্রাথমিকভাবে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলেও, অভ্যন্তরীণ তদন্তে সন্দেহজনক লেনদেন ধরা পড়ায় মন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে বিশেষ তদন্তের আবেদন জানানো হয়। এর ভিত্তিতে ৩ সদস্যের একটি উচ্চস্তরীয় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। ইতিমধ্যেই অযোধ্যা পুলিশ মন্দিরের দুই কর্মচারীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার হয়েছে। পবিত্র ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশ তথা দেশের রাজনীতিতে বিজেপির স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং হিন্দুত্ববাদী ভাবাবেগের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।