আইনি ফাঁসে চরম বিপাকে অভিষেক, মধ্যপ্রদেশে রক্ষাকবচ খারিজের পর প্রবল গ্রেপ্তারি শঙ্কা!

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি সংকট আরও ঘনীভূত। কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীয়র দায়ের করা মানহানি মামলায় মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট অভিষেকের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আদালতের এই নির্দেশের পর যেকোনও মুহূর্তে গ্রেপ্তার হতে পারেন এই তৃণমূল সাংসদ।
মানহানি মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি জট
একটি রাজনৈতিক সভা থেকে বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে ‘গুন্ডা’ বলে আক্রমণ করার অভিযোগ ওঠে অভিষেকের বিরুদ্ধে। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ভোপালের এমপি-এমএলএ আদালতে মানহানির মামলা রুজু হয়। একাধিকবার আদালতের সমন এড়িয়ে যাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট ওই পরোয়ানার ওপর স্থগিতাদেশ দিলেও সম্প্রতি তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যার ফলে তাঁর আইনি ঢাল পুরোপুরি সরে গেল।
তদন্তের ঘেরাটোপ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
এই গ্রেপ্তারি শঙ্কা এমন এক সময়ে তৈরি হল যখন তিনি ইতিমধ্যেই একাধিক তদন্তকারী সংস্থার আতশকাঁচের নিচে রয়েছেন। বিধানসভায় সই জাল এবং ডিজে মন্তব্য মামলায় সিআইডির তলবে তাঁকে হাজিরা দিতে হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির জেরার মুখেও পড়েছেন তিনি। এছাড়া আমফান দুর্নীতি, গরুপাচার ও বালিপাচারের মতো মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। এর পাশাপাশি সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর খোদ তৃণমূলের অন্দরেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়েছে। দলের একাংশ তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছে। একদিকে দলের অভ্যন্তরীণ তীব্র কোন্দল এবং অন্যদিকে একের পর এক মামলায় আইনি রক্ষাকবচ হারানো— এই জোড়া চাপে অভিষেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও দলের অবশিষ্ট সাংগঠনিক স্থিতি বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়তে চলেছে।