আদালত নাকি বিধানসভা, ঋতব্রতর ভাগ্য নির্ধারণে নজর আজ সব মহলে

আজ রাজ্য রাজনীতির এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতার জল গড়াল আদালত পর্যন্ত। বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আইনি লড়াইয়ের রায় আজ ঘোষণা করতে পারে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ এই মামলার রায়দান হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এর আধ ঘণ্টা পর, সকাল ১১টায় রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে শুরু হতে চলেছে বিধানসভার নতুন অধিবেশন। ফলে আদালত এবং বিধানসভা—উভয় ক্ষেত্রেই আজ রাজ্য রাজনীতির এক বড়সড় সমীকরণ স্পষ্ট হতে পারে।
শক্তি বাড়াচ্ছে বিদ্রোহী শিবির, অনড় অবস্থান শাসকদলের
বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে শুরু হওয়া এই দ্বন্দ্বে ঋতব্রত এবং আখরুজ্জমান শিবির ক্রমশ তাদের শক্তি বাড়াচ্ছে বলে দাবি করেছে। প্রথম দফায় ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত প্রস্তাব অধ্যক্ষের কাছে জমা দেওয়া হলেও, পরবর্তীকালে ব্যক্তিগত চিঠির মাধ্যমে সেই সংখ্যা ৬৫-তে পৌঁছেছে বলে বিদ্রোহীদের দাবি। এই পরিস্থিতিতে অধিবেশন চলাকালীন নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে অধিকাংশ সমর্থক বিধায়ককে বিধানসভা কক্ষে উপস্থিত রাখার কৌশল নিয়েছে তারা। এমনকি ‘ফ্লোর টেস্ট’ বা আস্থা ভোটের মাধ্যমে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দাবিও তুলেছেন ঋতব্রত।
অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবির এই ফ্লোর টেস্টের দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণত সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্যই ফ্লোর টেস্টের নিয়ম রয়েছে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নয়। বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা সম্পূর্ণ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
গত বুধবার হাইকোর্টে শুনানির সময় বিধানসভার অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে আদালত। প্রথম চিঠি পাওয়ার পর দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিয়ে দ্বিতীয় চিঠির ক্ষেত্রে কেন অতিসক্রিয়তা দেখানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। পাশাপাশি বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগ উঠলেও, সঠিক তদন্ত ছাড়া তা প্রমাণিত হয় না বলেও মন্তব্য করে আদালত।
আজকের এই রায়ের ওপর নির্ভর করছে বিধানসভার ভেতরের রাজনৈতিক সমীকরণ। হাইকোর্টের রায় যদি ঋতব্রতর পক্ষে যায়, তবে তা শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হবে এবং বিধানসভার অধিবেশনে এর তীব্র প্রভাব পড়বে। আর যদি রায় বিদ্রোহীদের বিপক্ষে যায়, তবে দলের অন্দরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে। যদিও ২৫ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত কার্যসূচিতে কোনো ফ্লোর টেস্টের উল্লেখ নেই, তবুও আদালতের রায় এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপই ঠিক করে দেবে রাজ্য রাজনীতির আগামী গতিপ্রকৃতি।