কাশ্মীরে গভীর জঙ্গলে হিজবুল ডেরার সন্ধান, বিপুল অস্ত্রসহ গ্রেফতার খোদ বন দফতরের কর্মী!

জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতোয়ারে হিজবুল মুজাহিদ্দিনের একটি গোপন আস্তানার সন্ধান মেলায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সহায়তার অভিযোগে স্থানীয় এক বন দফতরের কর্মীসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। ধৃতদের মধ্যে একজন হলেন হিজবুল জঙ্গি মুদাস্সির হুসেনের বাবা তারেক আহমেদ গিন্নু, যিনি পেশায় বনকর্মী। অন্য ধৃতের নাম মহম্মদ ইকবাল। কিশতোয়ারের দানচান এলাকার তান্দের থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
বনকর্মীর আড়ালে জঙ্গি নেটওয়ার্ক ও অস্ত্র উদ্ধার
নিরাপত্তা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, পেশায় সরকারি বনকর্মী হয়েও তারেক আহমেদ গিন্নু দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম বনাঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের গোপনে আশ্রয় ও সহায়তা দিয়ে আসছিলেন। তাকে গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তান্দের এলাকার কানজালগোথ জঙ্গলে একটি অত্যন্ত গোপন আস্তানার খোঁজ পায় যৌথ বাহিনী। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি সচল একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেলের কার্তুজ এবং তিনটি আন্ডার-ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার (ইউবিজিএল) গ্রেনেড রয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কিশতওয়ার থানায় অস্ত্র আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর একাধিক কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংসের লক্ষ্যে বড়সড় অভিযান
সম্প্রতি এই অঞ্চলের ছত্রু এলাকা থেকে আরও দুই সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতারের পর এই নতুন চক্রটির হদিস মেলে। কিশতোয়ারের জেলা পুলিশ সুপার (এসএসপি) নরেশ সিং জানিয়েছেন, চলমান এই তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় স্তরে গড়ে ওঠা পুরো জঙ্গি সহায়তা নেটওয়ার্কটিকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলা এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা। এই সফল অভিযানের ফলে পাহাড়ি এলাকায় হিজবুল মুজাহিদ্দিনের রসদ ও আশ্রয় ব্যবস্থা বড়সড় ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লুকিয়ে থাকা মুদাস্সির হোসেন এবং প্রবীণতম কমান্ডার জাহাঙ্গীর সরুরিসহ তিন শীর্ষ হিজবুল জঙ্গিকে নির্মূল করতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী, যাদের প্রত্যেকের মাথার দাম ১০ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে।