অভিষেকের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল ছাড়লেন প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার!

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদলের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় ভাঙন ধরল শাসকদলে। জেলা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার একদিন পরেই পদ প্রত্যাখ্যান করে দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন খড়গপুরের প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণ দর্শালেও, পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। এমনকি খড়গপুরের কার্যালয় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিও সরিয়ে দেন এই নেতা।
দলত্যাগের কারণ ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদীপ সরকার সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২২ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁকে খড়গপুর পুরসভার পুরপ্রধানের পদ থেকে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবগত ছিলেন না এবং আজ পর্যন্ত তাঁকে অপসারণের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণও জানানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এই ক্ষোভ এবং দলের ভেতরের একাংশের অন্তর্ঘাতই তাঁর দলত্যাগের মূল কারণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পেছনেও অন্তর্ঘাত কাজ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যতের জল্পনা
প্রদীপ সরকারের এই আকস্মিক দলত্যাগ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিতে বড় ধাক্কা দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দল ছাড়লেও তিনি রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিচ্ছেন না এবং কাউন্সিলর হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে স্পষ্ট করেছেন। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দলত্যাগের পরই তিনি মেদিনীপুরের বর্তমান সাংসদ জুন মালিয়াকে নিজের একমাত্র নেত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং খড়গপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের প্রশংসা করেছেন তিনি। মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়াসহ তৃণমূলের ২০ জন সাংসদের ত্রিপুরাভিত্তিক রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার জল্পনার মাঝেই প্রদীপের এই অবস্থান জেলার রাজনৈতিক সমীকরণকে এক নতুন মোড় দিল।