উপহার ফেরাতে গিয়েও ব্যর্থ! মমতার দেওয়া উপহার ফেরাতে পারলেন না কাকলিপুত্র

উপহার ফেরাতে গিয়েও ব্যর্থ! মমতার দেওয়া উপহার ফেরাতে পারলেন না কাকলিপুত্র

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল এবার এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় মোড় নিল। দলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের আবহে তাঁর পুত্র তথা পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের কালীঘাট যাত্রা ঘিরে বুধবার তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বিয়ের উপহার ও একটি ব্যক্তিগত চিঠি ফেরত দিতে কালীঘাটের বাসভবনে গিয়েছিলেন তিনি। তবে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং বাসভবনের কর্মীদের বাধায় শেষ পর্যন্ত উপহারের সেই সোনার হার ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থ হন তিনি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তা গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত কাকলি-পুত্র সেটি কালীঘাট মন্দিরে মা কালীর চরণে দান করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উপহার প্রত্যাখ্যান ও নিরাপত্তার দেওয়াল

রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে দীর্ঘক্ষণ টানটান উত্তেজনা বজায় ছিল। তাঁর দাবি, শৈশব থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল। বিয়ের সময় প্রাপ্ত উপহারটিকে তিনি আশীর্বাদ ও অমূল্য বলেই মনে করতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক শত্রুতা এবং কাদা ছোড়াছুড়ির জেরে সেই উপহারের পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে। বাসভবনের নিরাপত্তাকর্মী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা উপহার কিংবা চিঠি—কোনোটিই গ্রহণ করতে সম্মত হননি, এমনকি তাঁকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক বৈরিতার জেরে একটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উপহারকে এভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা দলটির অন্দরে তৈরি হওয়া গভীর ফাটলকেই প্রকাশ করছে।

চরিত্রহনন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পেছনে দলের একাংশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বৈদ্যনাথ। তাঁর অভিযোগ, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে তৃণমূলের একাধিক সাংসদ ও শীর্ষ স্তরের রাজনৈতিক নেতা তাঁকে লক্ষ্য করে লাগাতার অত্যন্ত অপমানজনক মন্তব্য ও চরিত্রহনন করে চলেছেন, যা তাঁর মতো একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তির পক্ষে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই ঘটনার ফলে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ ফাটল আরও স্পষ্ট রূপ নিল, যা আগামী দিনে দলের শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আইটি সেল এবং দলের কতিপয় নেতার আক্রমণ যেভাবে একটি পরিবারের ব্যক্তিগত বিপর্যয়কে প্রকাশ্যে এনেছে, তা রাজনৈতিক মহলে চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে। এই ঘটনাটি নিছক ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্য ও পুরোনো বনাম নব্য দ্বন্দ্বের এক গভীর বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *