উত্তরে লাল সতর্কতা আর দক্ষিণে ভ্যাপসা গরম! বঙ্গে আবহাওয়ার চরম বদল

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করা রাজ্যবাসীর জন্য আবহাওয়ার বড়সড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আগামী কয়েকদিন রাজ্যের উত্তর ও দক্ষিণ ভাগে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী আবহাওয়া বিরাজ করবে। উত্তরে যখন অতি ভারী বৃষ্টির জেরে লাল সতর্কতা জারি হয়েছে, তখন দক্ষিণে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থেকে এখনই পুরোপুরি মুক্তি মিলছে না।
উত্তরে প্লাবনের শঙ্কা ও পাহাড়ে ধসের সতর্কতা
হিমালয়ের পাদদেশ সংলগ্ন জেলা ও ডুয়ার্স অঞ্চলের জন্য প্রশাসন হাই-অ্যালার্ট জারি করেছে। বিশেষ করে ১৮ জুন জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একটানা এই বর্ষণের জেরে তিস্তা ও তোর্সার মতো পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতায় ধস নামার প্রবল শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে পর্যটক ও স্থানীয়দের সতর্ক থাকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণে ক্ষণিক বৃষ্টি ও বজ্রপাতের চরম ঝুঁকি
উত্তরবঙ্গের মতো পরিস্থিতি না হলেও দক্ষিণবঙ্গে ১৮ ও ১৯ জুন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মূলত স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভ মেঘের জেরে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে হালকা বৃষ্টি এবং সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে ভ্যাপসা গরম ও ঘামের সমস্যা অব্যাহত থাকবে। আবহাওয়া দফতরের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো বজ্রপাত। আগামী ২০ জুন পর্যন্ত দুই বঙ্গেই বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং প্রাণহানি এড়াতে সাধারণ মানুষকে দুর্যোগের সময় নিরাপদ ও পাকা আশ্রয়ে থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।