আমেরিকা-ইরানের তড়িঘড়ি শান্তিচুক্তি! ৮০০ শব্দের খসড়ায় রয়ে গেল একাধিক ধোঁয়াশা

দীর্ঘ ১৫ সপ্তাহের উদ্বেগজনক সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির পথে হেঁটেছে আমেরিকা ও ইরান। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে একটি ১৪ দফা শান্তি চুক্তির খসড়া প্রকাশ্যে এসেছে, যার মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই চুক্তির লিখিত ভাষ্য ৮০০ শব্দেরও কম। বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলা এই সংঘাত থামাতে তড়িঘড়ি করে তৈরি করা সংক্ষিপ্ত খসড়ায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ একাধিক অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গের সুনির্দিষ্ট উত্তর অমীমাংসিত থেকে গেছে।
অস্পষ্ট শর্তাবলি ও ধোঁয়াশা
চুক্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালীতে প্রাক-যুদ্ধ অবস্থার মতো জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে এবং ৬০ দিন বাণিজ্যতরীগুলোর নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে। তবে এই সময়সীমা পার হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ চূড়ান্তভাবে কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। অন্যদিকে, আমেরিকাও ৩০ দিনের মধ্যে ইরান সংলগ্ন এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের ঠিক কোন কোন ঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনী সরানো হবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। এছাড়া, দুই দেশ এবং তাদের ‘সহযোগী পক্ষগুলি’ সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে বলা হলেও, সরাসরি ইসরায়েল বা হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ না থাকায় ওই অঞ্চলের সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
পরমাণু ইস্যু ও সম্ভাব্য প্রভাব
খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকবে এবং উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মার্কিন প্রশাসন ইরানে ক্ষমতার পালাবদল ঘটানোর চেষ্টা থেকে হয়তো সরে আসতে রাজি হয়েছে। কিন্তু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা পরমাণু চুক্তির বিস্তারিত কোনো রূপরেখা এই নথিতে প্রকাশ করা হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে এই চুক্তি বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমন করে স্বস্তি আনলেও, নথিতে থাকা এই অস্পষ্টতাগুলোর কারণে আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে কূটনৈতিক জটিলতা বা সংঘাত তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।