তিক্ততা ভুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ঘরে কুণালরা, বাংলার রাজনীতিতে কি এবার বরফ গলবে?

তিক্ততা ভুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ঘরে কুণালরা, বাংলার রাজনীতিতে কি এবার বরফ গলবে?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা অধিবেশনের প্রথম দিনেই এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সৌজন্যের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। দীর্ঘদিনের তীব্র রাজনৈতিক তিক্ততা সরিয়ে রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে গিয়ে মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের পাঁচ মমতাপন্থী শীর্ষ বিধায়ক। কুণাল ঘোষ, প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব এবং রহিম বক্সির এই আকস্মিক উপস্থিতি বিধানসভা চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। দলমত নির্বিশেষে রাজ্য ও মানুষের স্বার্থে একাধিক জরুরি ইস্যু নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

টানাপোড়েনের সূত্রপাত ও বৈঠকের নেপথ্য কারণ

এই বৈঠকের ক্ষেত্রটি রাতারাতি তৈরি হয়নি, এর পেছনে রয়েছে গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও পর্দার আড়ালের কিছু সুনির্দিষ্ট বার্তা। সম্প্রতি বেলেঘাটার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দারের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। স্বপনবাবু গ্রেফতার হওয়ার পরেই কুণাল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি বিশেষ বার্তা পাঠিয়ে নিচুতলার নেতা ও কর্মীদের ওপর পুলিশি হেনস্থা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা বন্ধের দাবি জানান। সেই বার্তার প্রেক্ষিতেই বিধানসভা অধিবেশনের প্রথম দিনে এই মুখোমুখি আলোচনার দিনক্ষণ স্থির হয়। এর পরেই গত বুধবার রাতে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ঘিরে তীব্র নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দুই পুরনো পিএসও-কে পুলিশ তুলে নেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে তৃণমূল শিবির। কুণাল ঘোষ ব্যক্তিগত সৌজন্যের খাতিরে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার এবং মমতাদির পুরনো পিএসও টিমকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুনরায় মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।

তিনটি জরুরি দাবি ও সম্ভাব্য প্রভাব

নবান্ন ও বিধানসভা সূত্রে জানা গেছে, এই মমতাপন্থী প্রতিনিধি দলটি মূলত তিনটি প্রধান ও মানবিক দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়েছেন। প্রথমত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো নিরাপত্তা টিম ফিরিয়ে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা ও মামলা বন্ধ করা। এবং তৃতীয়ত, উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কোনওভাবেই যাতে বুলডোজার দিয়ে হকার উচ্ছেদ না করা হয় এবং হকারদের বিকল্প ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি কিছু অত্যন্ত জরুরি পরিষদীয় বিষয় নিয়েও দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের বিধায়করা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁরা সকলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত থেকেই কেবল রাজ্য ও মানুষের স্বার্থে এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এই বৈঠকের ফলে রাজ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কুণাল ঘোষের এই মধ্যস্থতা এবং তার প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ইতিবাচক সাড়ার ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যকার চরম সংঘাতের বরফ কতটা গলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *