সংঘাতের ইতিহাস অতীত, বিধানসভায় রাজ্যপালের মুখে এবার নতুন সরকারের স্তুতি!

রাজ্য ও রাজ্যপালের মধ্যে সংঘাতের দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য ভেঙে এবার এক নতুন সমীকরণের সাক্ষী হল বঙ্গ রাজনীতি। সম্প্রতি বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে রাজ্যের পাঠানো পূর্ণাঙ্গ ভাষণ পাঠ করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এই ভাষণে সদ্য গঠিত শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের ভূয়সী প্রশংসা এবং পূর্বতন সরকারের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচনা করা হয়। অভাবনীয়ভাবে এই প্রথম অধিবেশন শুরুর আগে রাজ্যপালের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচারিতও হয়েছে, যা বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক চরম ব্যতিক্রমী ঘটনা।
অতীতের তিক্ততা থেকে মসৃণ সম্পর্ক
১৯৬৭ সালে রাজ্যপাল ধর্মবীরের সময়কাল থেকে শুরু করে হালফিলের কেশরীনাথ ত্রিপাঠী, জগদীপ ধনকড় বা সি ভি আনন্দ বোস—রাজ্যপালদের সঙ্গে রাজ্যের নির্বাচিত সরকারের সংঘাত বাংলার দীর্ঘদিনের ইতিহাস। অতীতে রাজ্যপালদের সরকারের তৈরি করা ভাষণ পড়তে অস্বীকার করা, মাঝপথ থেকে চলে যাওয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডার ঘটনা দেখেছে বিধানসভা। কিন্তু সেই সংঘাতময় অতীতকে সরিয়ে রেখে এবার রাজ্যপালের মুখে শোনা গেল ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’-এর বার্তা।
সমন্বয়ের কারণ ও প্রশাসনিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের সরকার বা ‘ডবল ইঞ্জিন’ শাসনব্যবস্থা থাকায় দুই শিবিরের মধ্যে এই সদিচ্ছা ও সমন্বয় তৈরি হয়েছে। রাজ্য ও রাজ্যপালের এই মসৃণ সম্পর্কের গভীর প্রভাব পড়বে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে। লালফিতের ফাঁস কেটে গিয়ে রাজ্যের বহু কাজ দ্রুত গতি পাবে। বিশেষ করে উপাচার্য নিয়োগ বা বিল পাশের মতো যে বিষয়গুলিতে অতীতে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, আগামী দিনে সেই সব ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে আর কোনও জটিলতার মুখে পড়তে হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।