শিক্ষাব্যবস্থা আসলে রিজেকশনের পদ্ধতি! কোটায় জেন-জিদের মন জিততে সুপারস্টার রাহুল

শিক্ষাব্যবস্থা আসলে রিজেকশনের পদ্ধতি! কোটায় জেন-জিদের মন জিততে সুপারস্টার রাহুল

দক্ষিণী তারকা থলপতি বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থান এবং যুবসমাজের ওপর তাঁর প্রভাব থেকে স্পষ্টতই অনুপ্রাণিত লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এবার সেই একই মডেলে ‘জেন-জি’ বা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মন জয় করতে একেবারে নয়া অবতারে হাজির হলেন তিনি। রাজস্থানের কোটায় আয়োজিত ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ শীর্ষক এক মেগা ছাত্র সমাবেশে কোনও সুপারস্টারের মতোই মঞ্চে এন্ট্রি নিলেন রাহুল। বিশাল জায়ান্ট স্ক্রিন, আধুনিক লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো এবং পড়ুয়াদের মোবাইল ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় এক অভাবনীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির সাক্ষী থাকল কোটার তরুণ সমাজ।

নিট আবহে শিক্ষা ব্যবস্থাকে তীব্র আক্রমণ

মূলত নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে কংগ্রেসের দেশব্যাপী আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এই ওপেন থিয়েটার কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। গতানুগতিক রাজনৈতিক পরিসর থেকে বেরিয়ে এসে সরাসরি তরুণদের ভাষায় তাদের ক্ষোভের কথা তুলে ধরাই ছিল এই কর্মসূচির প্রধান কারণ। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারতের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘তোলাবাজির মঞ্চ’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেন রাহুল। তাঁর দাবি, বর্তমান ব্যবস্থাটি প্রতিভা বাছাই করার পরিবর্তে আসলে ‘বাদ দেওয়ার পদ্ধতি’ বা ‘সিস্টেম অফ রিজেকশন’-এ পরিণত হয়েছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, তিন হাজার পড়ুয়ার মধ্যে মাত্র একজন আইএএস, ত্রিশ জন আইআইটি এবং একশো আশি জন ডাক্তার হওয়ার সুযোগ পান, কিন্তু বাকিদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এই বৈষম্য দূর করে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক পথ থেকে ফিরিয়ে আনাই তাঁর লক্ষ্য বলে স্পষ্ট করেন বিরোধী দলনেতা।

দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ব্লু-প্রিন্ট

কোটার এই মেগা ইভেন্ট আসলে কংগ্রেসের এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, যার প্রভাব আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে একত্রিত করতে এই একই সুপারস্টার ধাঁচে আগামী ১০ জুলাই এলাহাবাদ, ১১ জুলাই পাটনা এবং ১৪ জুলাই দিল্লিতে মেগা ইভেন্টের পরিকল্পনা করেছে কংগ্রেস। এই কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে পরীক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, যুব সংগঠন এবং দুর্নীতিতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের এক ছাতার তলায় এনে দেশজুড়ে একটি শক্তিশালী ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাহুলের এই আধুনিক জনসংযোগ পদ্ধতি এবং আগ্রাসী আন্দোলন আগামী দিনে যুব ভোটব্যাঙ্ককে কংগ্রেসের দিকে টানতে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *