৩০ পেরোলেই কমছে হাড় আর পেশির শক্তি, সুস্থ বার্ধক্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ে!

৩০ পেরোলেই কমছে হাড় আর পেশির শক্তি, সুস্থ বার্ধক্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ে!

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ‘স্ট্রেন্থ ট্রেনিং’ বা জিমে গিয়ে ওজন তোলার বিষয়টিকে কেবল একটি আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন বা সিক্স-প্যাক বানানোর মাধ্যম হিসেবে দেখেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, এর সুফল কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে, হাড়ের ঘনত্ব বা বোন ডেনসিটি বজায় রাখতে এবং মেটাবলিজমকে সচল রেখে বার্ধক্যজনিত নানাবিধ ক্রনিক রোগ প্রতিরোধ করতে রেসিস্ট্যান্স বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তরুণ বয়স থেকেই এই ট্রেনিং শুরু করা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য এবং জীবনের গুণগত মান উন্নত করতে একটি বিরাট পরিবর্তন আনতে পারে।

হাড় ক্ষয়ের নেপথ্য কারণ ও মারাত্মক প্রভাব

চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, মানুষের শরীর ৩০ বছর বয়স পার করার পর থেকেই প্রাকৃতিকভাবে একটি ক্ষয়িষ্ণু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। বয়স ৩০ ছোঁয়ার পর থেকে প্রতি বছর হাড় ও পেশির ঘনত্বের প্রায় ১ শতাংশ হ্রাস পেতে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পেশি কমে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াকে ‘সারকোপেনিয়া’ বলা হয়। এর ফলে ৫০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর যদি কোনো ব্যক্তির শরীরে পর্যাপ্ত পেশি বা হাড়ের শক্তি না থাকে, তবে তা কেবল হাঁটাচলাতেই সমস্যা তৈরি করে না, বরং একাধিক মেটাবলিক বা বিপাকীয় জটিলতার জন্ম দেয়। নিয়মিত ওজন না তোলার কারণে মারাত্মক ‘অস্টিওপোরোসিস’ বা হাড় ক্ষয় রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা মানুষকে বার্ধক্যে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এক্স-রে স্ক্যানেও দেখা গেছে যে, যাঁরা নিয়মিত ওয়েট লিফ্টিং করেন তাঁদের হাড় ক্ষয়ের লক্ষণ থাকে না, পক্ষান্তরে অলস জীবনযাপনকারীদের হাড় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

যাঁরা আগে কখনও জিমে যাননি বা ভারী ওজন তোলেননি, চিকিৎসকদের মতে তাঁদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শুরুতেই ভারী ডাম্বেল না তুলে অত্যন্ত ধীর গতিতে এবং সঠিক নিয়মে ব্যায়াম শুরু করা উচিত। প্রথমত, ওয়াল পুশ-আপ এবং লাঞ্জেসের মতো ফ্রি-হ্যান্ড বা বডিওয়েট ব্যায়াম দিয়ে শুরু করা যেতে পারে, যা পেশিকে ওজনের সাথে অভ্যস্ত করায়। দ্বিতীয়ত, সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন এবং পেশি পুনর্গঠনের জন্য দুটি সেশনের মাঝে অন্তত ২৪ ঘণ্টার বিশ্রাম দিতে হবে। সর্বশেষ, পেশি মেরামতের জন্য খাবারের তালিকায় প্রতিদিন শরীরের প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে ১.২ থেকে ১.৫ গ্রাম প্রোটিন যেমন—ডাল, ডিম, পনির বা চিকেন রাখা জরুরি। বার্ধক্যে অন্যের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি জোগাতে আজই অলসতা কাটিয়ে স্ট্রেন্থ ট্রেনিং শুরু করা প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *