রাফালের পর এবার অর্থনীতি, ফরাসি ভূখণ্ডে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত খুলছেন মোদি!

সদ্য সমাপ্ত জি৭ সম্মেলনের আবহেই ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে পৌঁছে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে রাফালে যুদ্ধবিমান নিয়ে দুই দেশের মজবুত সম্পর্কের পর, এবার ভারতের মূল লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও শিল্পগত সহযোগিতাকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বিশেষ আমন্ত্রণে জি৭ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর, প্রধানমন্ত্রীর এই প্যারিস সফর ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক মহল।
শীর্ষ ফরাসি পুঁজিপতিদের সাথে মেগা বৈঠক
প্যারিসে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফ্রান্সের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সঙ্গে একগুচ্ছ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এই বাণিজ্যিক আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ফরাসি বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করছেন বিখ্যাত নির্মাণ সামগ্রী প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘সেইন্ট-গোবেইন’-এর চেয়ারম্যান ও সিইও বেনোইট বেজিনের সঙ্গে, যেখানে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হবে।
পাশাপাশি, ভারতের রেল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করতে তিনি বৈঠক করছেন ফরাসি বহুজাতিক রেল সংস্থা ‘অ্যালস্টম’-এর সিইও-র সঙ্গে। প্রযুক্তির আধুনিক যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব মাথায় রেখে ‘মিস্ট্রাল এআই’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা আর্থার মেনশের সঙ্গেও কৌশলগত বৈঠকে বসছেন তিনি। এছাড়া সামুদ্রিক বাণিজ্য ও ভারতীয় বন্দরগুলোর আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ‘সিএমএ সিজিএম’ গ্রুপের চেয়ারম্যান রডলফ সাদের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা নির্ধারিত রয়েছে।
বাণিজ্যিক জোয়ারের কারণ ও দূরগামী প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই মেগা সফরের মূল কারণ হলো ভারতের উদীয়মান বাজার ও পরিকাঠামোকে বৈশ্বিক আধুনিক প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করা। ভারত ইতিমধ্যেই ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ নকশা ও উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এগোচ্ছে। এবার সেই কৌশলগত সম্পর্ককে কেবল সেনাবাহিনীতে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের মূল অর্থনীতিতে ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই বৈঠকের সম্ভাব্য প্রভাব ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী হতে পারে। অ্যালস্টম ও সিএমএ সিজিএম-এর মতো বিশ্বমানের সংস্থার প্রযুক্তিগত সহায়তায় ভারতের রেল ও বন্দর পরিকাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার আসবে। অন্যদিকে, মিস্ট্রাল এআই-এর সাথে অংশীদারিত্ব দেশের প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে। সামগ্রিকভাবে, এই ফরাসি বিনিয়োগ ভারতের উৎপাদন শিল্প ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক নতুন জোয়ার নিয়ে আসতে পারে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে।