কালীঘাটে নজিরবিহীন ছবি, কেন নতুন নিরাপত্তারক্ষীদের ফিরিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

কালীঘাটে নজিরবিহীন ছবি, কেন নতুন নিরাপত্তারক্ষীদের ফিরিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনের নিরাপত্তা বলয় নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জটিলতা। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই টানাপড়েন বৃহস্পতিবারও বজায় রইল। লালবাজার থেকে পাঠানো নতুন ৬ জন পিএসও (পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার) পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিককে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁদের মধ্যে একজন ভিতরে গিয়ে কথা বলার সুযোগ পেলেও মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তাঁকে বের করে দেওয়া হয় এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে ম্যাডাম নতুন পিএসও নেবেন না। বর্তমানে তাঁর বাড়ির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দলেরই কয়েকজন অত্যন্ত বিশ্বাসী ও আস্থাভাজন যুবক এবং তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন মাত্র দু-একজন পুলিশ কর্মী।

ক্ষোভের কারণ ও রদবদল

এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সূত্রপাত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। মুখ্যমন্ত্রীর মোট পাঁচজন পিএসও ছিলেন, যাঁদের মধ্যে তিনজন তাঁর অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। প্রশাসন এই পুরনো রক্ষীদের নিজেদের ইউনিটে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এই পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং কালীঘাটের বাড়ির সামনে থেকে পুলিশি প্রহরা তুলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে জানানো হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর জেড প্লাস নিরাপত্তা বহাল রয়েছে এবং এটি একটি রুটিন প্রশাসনিক রদবদল মাত্র।

সম্ভাব্য প্রভাব ও রাজনৈতিক মধ্যস্থতা

প্রশাসনিক এই সংঘাতের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ঘটনাকে ভালো চোখে দেখছেন না। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই দলের নেতা কুণাল ঘোষ স্বয়ং বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসন নিয়মমাফিক কাজ করলেও সৌজন্যের খাতিরে যাতে পুরনো বিশ্বস্ত পিএসও-দের ফিরিয়ে আনা হয়, সেই অনুরোধ জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কিছুটা ইতিবাচক সাড়াও মিলেছে বলে সূত্রের খবর। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের নিরাপত্তা নিয়ে এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতা কাটার সম্ভাবনা কম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *