মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে বিশেষ সম্মানে শোভনদেব, ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা মানতে নারাজ কুণালরা!

নির্বাচনের পর বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলল। রাজ্যপালের ভাষণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে গিয়ে বৈঠক করলেন তৃণমূলের পাঁচ হেভিওয়েট বিধায়ক—কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, আলিফা আহমেদ এবং অশোক দেব। কালীঘাট শিবিরের এই বিধায়কদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক অত্যন্ত সদর্থক হয়েছে বলে সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছে। বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়ে হওয়া এই বৈঠক আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে নতুন রাজনৈতিক তরজার জন্ম দিতে চলেছে।
চেয়ার ঘিরে সম্মান ও ঋতব্রতকে বয়কটের ডাক
এই বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় ছিল ঘরের আসন বিন্যাস এবং রাজনৈতিক অবস্থান। বৈঠক শেষে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে বিরোধী দলনেতার জন্য যে নির্দিষ্ট চেয়ারটি বরাদ্দ রাখা ছিল, সেখানে বসানো হয়েছিল প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই শোভনদেবকে এই যথাযথ সম্মান দিয়েছেন। অন্যদিকে, সরকারিভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে পরিচিত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুটা দূরে বসেছিলেন। কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা কোনোভাবেই ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মানবেন না। মাথা উঁচু করে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে ঢুকে নিজেদের দাবিদাওয়া পেশ করার পাশাপাশি নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়ার কথাও জানান তাঁরা।
ঘটনার কারণ ও দূরগামী রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাতের মূল কারণ হলো বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা এবং নিজেদের গোষ্ঠীর রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখা। কুণাল ঘোষদের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ ফাটল এখন সম্পূর্ণ জনসমক্ষে চলে এলো।
এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে আগামী দিনে বিধানসভার কার্য পরিচালনায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিরোধী হিসেবে পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার যে দাবি কালীঘাট শিবির তুলেছে, তা নিয়ে স্পিকারের ভূমিকা কী হয়, তা-ও দেখার। একই সঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিধায়কদের আপাত ‘সদর্থক’ আলোচনা শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যকার চেনা সমীকরণকে এক নতুন রাজনৈতিক মোড় দিতে পারে।