জি৭ সম্মেলনে রাষ্ট্রনেতাদের খোশগল্পে ফাঁস হলো একাধিক গোপন কথা

জি৭ সম্মেলনে রাষ্ট্রনেতাদের খোশগল্পে ফাঁস হলো একাধিক গোপন কথা

বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনেতারা যখন এক মঞ্চে মিলিত হন, তখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি আর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণই প্রধান হয়ে ওঠে। তবে সম্প্রতি শুরু হওয়া জি৭ সম্মেলনের আবহ ছিল কিছুটা ভিন্ন। আনুষ্ঠানিক আলোচনার আড়ালে রাষ্ট্রনেতাদের পারস্পরিক অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতা এবং হালকা চালের খোশগল্পে উঠে এসেছে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের একাধিক গোপন ও মজাদার তথ্য।

ধূমপান বর্জন ও কফির আড্ডা

মঙ্গলবার সম্মেলনের মূল পর্ব শুরু হওয়ার আগে ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জের মধ্যে একটি আকর্ষণীয় কথোপকথন পরিবেশকে হালকা করে তোলে। মেলোনি জানান, ক্লান্তি ও ঘুম কাটাতে তাঁকে টানা তিন কাপ কফি খেতে হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর রসিকতা করে কফির সঙ্গে সিগারেটের প্রয়োজনীয়তার কথা জানতে চাইলে মেলোনি প্রকাশ করেন যে, তিনি এক মাস আগে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। এই আলোচনার সূত্র ধরে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তার ধূমপানের অভ্যাস নিয়ে কথা হয়, যেখানে কোস্তা জানান যে তিনি দীর্ঘ ২১ বছর আগে ধূমপান বর্জন করেছেন।

হারানো ঘড়ি এবং সাইকেল উপহারের রসিকতা

সম্মেলনের অবসরে রাষ্ট্রনেতাদের রসিকতা আরও জমে ওঠে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঘড়ি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মধ্যাহ্নভোজের পর ম্যাক্রোঁ তাঁর হাতঘড়িটি কোথাও ফেলে এলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি বিষয়টি সবার সামনে নিয়ে আসেন। এই পরিস্থিতিকে আরও হাস্যরসাত্মক করে তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি রসিকতা করে ঘড়িটি নিজেকে উপহার হিসেবে দেওয়ার দাবি জানালে উপস্থিত সকলেই হেসে ওঠেন। এর পাশাপাশি, এবারের সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া সাইকেল এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ উঠে আসা বিশ্বনেতাদের এই মিলনমেলায় এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

কূটনীতির আড়ালে মানবিকতার ছোঁয়া

বিশ্বের শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে সাধারণত কঠোর প্রটোকল এবং গম্ভীর আলোচনা দেখা যায়। তবে এই ধরনের ব্যক্তিগত ও অনানুষ্ঠানিক কথোপকথন রাষ্ট্রনেতাদের মানবিক দিকটি সামনে নিয়ে আসে। এই ধরনের হালকা মেজাজের আলোচনা কঠিন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা পরোক্ষভাবে বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে সাহায্য করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *