চাইলেই কি রাখা যায় ব্রত! অম্বুবাচী পালনে কেন এত কঠিন নিয়ম

চাইলেই কি রাখা যায় ব্রত! অম্বুবাচী পালনে কেন এত কঠিন নিয়ম

আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় প্রকৃতির এক আদিম উৎসব অম্বুবাচী। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়ে ধরিত্রী ঋতুমতী হন এবং বর্ষার বারিধারায় গর্ভধারণের প্রস্তুতি নেন। ধরিত্রীর এই রজস্বলা দশাকে কেন্দ্র করেই পালিত হয় অম্বুবাচী। আগামী ২২ জুন রাত ৭টা ৩৮ মিনিটে শুরু হয়ে ২৬ জুন রাত ১০টা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ তিথি। তবে ভক্তি ও আবেগের মিশেল থাকলেও এই ব্রত পালনের অধিকার সবার নেই।

কারা পালন করতে পারেন এই ব্রত

লৌকিক আচার ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ অনুযায়ী চাইলেই যে কেউ এই ব্রত পালন করতে পারেন না। সনাতন ধর্মে সধবা নারীদের জন্য এই ব্রত পালনের নিয়ম নেই, তাই তাঁদের এই আচার থেকে বিরত থাকতে হয়। মূলত তন্ত্রসাধক, সাধু-সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচারী এবং বিধবা নারীরাই অম্বুবাচীর এই কঠিন ব্রত পালন করে থাকেন।

পালনের কঠিন নিয়ম ও শুদ্ধিকরণ

অম্বুবাচীর তিন দিন মা ধরিত্রীকে ‘অশুচি’ বলে গণ্য করা হয়। মাটির বুকে আগুন জ্বালালে ধরিত্রীর কষ্ট হবে, এই বিশ্বাস থেকে ব্রতকারীরা এ সময় উনুনে রান্না করা কোনো খাবার গ্রহণ করেন না। সাবু, ফলমূল ও ফলাহারের ওপর নির্ভর করেই দিন কাটে তাঁদের। শরীরী শুদ্ধির ক্ষেত্রেও থাকে কড়াকড়ি, টানা তিন দিন সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি, গৃহদেবতাদের মূর্তিও লাল কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়। তিথি শেষ হলে শুরু হয় শুদ্ধিকরণের পালা। ব্যবহৃত পোশাক ধুয়ে এবং স্নানের মাধ্যমে ব্রতকারীরা শুদ্ধ হন। শেষে দেবতাদের স্নান করিয়ে নতুন বস্ত্র পরানো হয় এবং গঙ্গাজল ছিটিয়ে ব্রত ভাঙার মাধ্যমে প্রকৃতির এই পুনর্জন্মের উৎসব সম্পন্ন হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *