একমুঠো ভাত বেশি চাওয়ায় খুদে ছাত্রকে বেধড়ক মার, কপাল কেটে রক্তারক্তি স্কুলে!

একমুঠো ভাত বেশি চাওয়ায় খুদে ছাত্রকে বেধড়ক মার, কপাল কেটে রক্তারক্তি স্কুলে!

নদিয়ার শান্তিপুর থানার কুতুবপুর জুনিয়র হাই স্কুলে মিড-ডে মিলের খাবারকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র একটু বাড়তি খাবার চাওয়ায় স্কুলের এক কর্মীর হাতে নির্মমভাবে আক্রান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকা এবং স্কুল চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে যে, শান্ত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।

তুচ্ছ কারণে চরম নৃশংসতা

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুলে মিড-ডে মিলের খাবার বিতরণ করা হচ্ছিল। খাবার নেওয়ার সময় পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রটি কর্তব্যরত গেটম্যানের কাছে সামান্য একটু ভাত বেশি দাবি করে। অভিযোগ, এই সাধারণ অনুরোধেই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন খাবারের দায়িত্বে থাকা ওই গেটম্যান। তিনি ছাত্রটিকে লক্ষ্য করে সজোরে একটি চড় মারেন। আঘাতের তীব্রতায় শিশুটি নিজের খাবারের থালার ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। স্টিলের থালার ধারালো কোণায় লেগে তার কপাল গভীরভাবে কেটে যায় এবং ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত শুরু হয়। সহপাঠী ও অন্য স্কুলকর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্রের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা স্কুলের ভেতরে ঢুকে অভিযুক্ত গেটম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। উত্তেজিত জনতার দাবি, শিশুদের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মীরাই যদি এভাবে হিংস্র আচরণ করেন, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের নিরাপত্তা কোথায়? এই ঘটনার ফলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি একধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যা আগামীদিনে সরকারি স্কুলগুলোতে মিড-ডে মিলের সুষ্ঠু পরিচালন ব্যবস্থা এবং ছাত্র-শিক্ষক-কর্মী সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শান্তিপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত গেটম্যানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *