মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে মমতাপন্থী ৫ বিধায়ক, বিধানসভার প্রথম দিনেই কি গলছে রাজনীতির বরফ!

মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে মমতাপন্থী ৫ বিধায়ক, বিধানসভার প্রথম দিনেই কি গলছে রাজনীতির বরফ!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর সমীকরণের ইঙ্গিত মিলল। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক তিক্ততা ও দূরত্ব সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে গিয়ে মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মমতাপন্থী পাঁচ শীর্ষ বিধায়ক। প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, অশোক দেব এবং রহিম বক্সির এই আকস্মিক উপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। পর্দার আড়ালের দীর্ঘ টানাপোড়েন ও ধারাবাহিক বার্তার পরই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকের নেপথ্য কারণ ও তিনটি জরুরি দাবি

সূত্র মারফত জানা গেছে, মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট ও জরুরি ইস্যু নিয়ে এই মমতাপন্থী প্রতিনিধি দলটি মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়েছেন। প্রথমত, গত বুধবার রাতে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা এবং তাঁর পুরনো পিএসও (পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার) টিমকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ। দ্বিতীয়ত, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশি হেনস্থা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা বন্ধ করা। এবং তৃতীয়ত, পুনর্বাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না করে বুলডোজার দিয়ে হকার উচ্ছেদ বন্ধ রাখা ও হকারদের বিকল্প ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া।

এই আলোচনার ক্ষেত্রটি মূলত তৈরি হয়েছিল সম্প্রতি বেলেঘাটার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দারের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে। সেই সময় কুণাল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীকে বার্তা পাঠিয়ে রাজনৈতিক হয়রানি থামানোর আর্জি জানিয়েছিলেন। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভা অধিবেশনের দিন মুখোমুখি বসার প্রস্তাব দিলে তৃণমূল নেতৃত্ব তাতে সম্মতি জানায়। এর মাঝে মমতার নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঘটনায় ক্ষোভের পারদ চড়লে কুণাল ঘোষ ব্যক্তিগত সৌজন্যের খাতিরে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে পুনরায় অনুরোধ করেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

এই বৈঠকের ফলে রাজ্যের বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়ায় এক নতুন মোড় আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই শীর্ষ নেতৃত্বের মুখোমুখি বসার ঘটনাটি পরিষদীয় রাজনীতিতে সৌজন্যের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের পাঁচ বিধায়কই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত থেকেই কেবল রাজ্য ও মানুষের স্বার্থে এই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। কুণাল ঘোষের এই মধ্যস্থতা এবং তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ইতিবাচক সাড়ার ওপরই এখন নির্ভর করছে আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খল ও রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *