কলকাতায় মোদী-শুভেন্দুর নজিরবিহীন যোগ মহোৎসব, মেগা আয়োজনে প্রস্তুত বাংলা!

রাজ্যে নবগঠিত সরকারের হাত ধরে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহে এবং নজিরবিহীন সাড়ম্বরে উদযাপিত হতে চলেছে ১২ তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে এই প্রথম বাংলায় তৈরি হয়েছে এক বিশাল প্রস্তুতির ব্লুপ্রিন্ট। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যজুড়ে তিন দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য যোগ মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন। আগামী ১৯ জুন থেকে শুরু হয়ে ২১ জুন পর্যন্ত এই উৎসব চলবে, যার মূল আকর্ষণ হতে চলেছে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতি।
উৎসবের প্রথম দিন অর্থাৎ ১৯ জুন, শুক্রবার রাজ্যজুড়ে একটি বিশেষ ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘রান ফর যোগা’। কলকাতায় এই ম্যারাথনের মূল কেন্দ্র হবে কলকাতা পুরনিগম সংলগ্ন এলাকা, যা মহাকরণে গিয়ে শেষ হবে। এ ছাড়া কলকাতার আরও ১১টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে এই দৌড় অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৬টায় অংশগ্রহণকারীদের সমবেত হওয়ার পর ঠিক ৭টা থেকে এই ম্যারাথন শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষ এই ম্যারাথনে নাম নথিভুক্ত করেছেন।
গঙ্গাবক্ষে প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২০ জুন, শনিবার ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে গঙ্গাবক্ষে এক অভিনব ও প্রযুক্তি-নির্ভর অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। এদিন বিকেল সাড়ে ৫টায় গঙ্গায় বিশেষ যোগাভ্যাসের কার্নিভাল ‘বন্দে যোগম’ অনুষ্ঠিত হবে। আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে গঙ্গার দুই কূল জুড়ে এক অপার্থিব ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করা হবে, যা বাংলার পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে দেশবাসীর কাছে নতুন করে তুলে ধরবে।
রেড রোডে মোদীর মেগা ইভেন্ট ও সম্ভাব্য প্রভাব
আগামী রবিবার, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল মঞ্চ তৈরি হচ্ছে রেড রোডে। সেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থেকে যোগাভ্যাস করবেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সাধারণ মানুষের জমায়েতের পর ৬টা ৪৫ মিনিটে মূল কর্মসূচি শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী শহরবাসীকে নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ মেগা ইভেন্টটি কেবল জনস্বাস্থ্যের সচেতনতাই বাড়াবে না, বরং দীর্ঘদিনের কেন্দ্র-রাজ্য প্রশাসনিক দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন সমন্বয়ের বার্তা দেবে। কলকাতা হাইকোর্টের সবুজ সংকেত মেলায় সমস্ত আইনি জটিলতা কেটে এই আয়োজন এখন সফল বাস্তবায়নের পথে, যা রাজ্যের নাগরিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রশাসনিক তৎপরতায় সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।