কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার ছক! স্পিকারের কাছে ৬ বিদ্রোহী সাংসদ, ঘোর সংকটে উদ্ধব

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড়সড় ভাঙনের মুখে শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) শিবির। দলের ৬ জন লোকসভা সাংসদ একজোট হয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন এবং সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁদের বিস্ফোরক অভিযোগ, দলের মূল হিন্দুত্ববাদী আদর্শ থেকে সরে এসে পর্দার আড়ালে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন উদ্ধব ঠাকরে। শিবসেনার এই ‘কংগ্রেসিকরণ’ রুখতেই তাঁরা দল ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিদ্রোহের কারণ ও গোপন ছক
বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, এই ক্ষোভ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। লোকসভা নির্বাচনে দলের তরফে পর্যাপ্ত আর্থিক ও সাংগঠনিক সাহায্য না পাওয়া এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের সম্পূর্ণ অভাবই এই বিদ্রোহের মূল কারণ। নিজেদের এলাকার সমস্যা নিয়ে স্বয়ং উদ্ধব বা আদিত্য ঠাকরের সঙ্গে দেখা করা কার্যত আসাম্ভব হয়ে উঠেছিল বলে তাঁদের অভিযোগ। এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই গত ১৬ জুন অত্যন্ত গোপনে ব্যক্তিগত বিমানে দিল্লি পৌঁছান তাঁরা। নয়ডার একটি বিলাসবহুল হোটেলে একনাথ শিন্ডে ও তাঁর পুত্রের সঙ্গে গোপন বৈঠকের পরই স্পিকারের কাছে গিয়ে তাঁরা শিন্ডে শিবিরের ব্লকে আসন বরাদ্দের লিখিত আবেদন জানান এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন তীর্থস্থানের উদ্দেশে রওনা দেন।
উদ্ধব শিবিরের পাল্টা পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিপর্যয় সামলাতে তড়িঘড়ি ৬ বিদ্রোহী সাংসদকে ৭ দিনের ‘শোকজ নোটিস’ পাঠিয়েছে উদ্ধব শিবির। দলের মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত এই ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির অর্থের আস্ফালন ও ইন্ধন রয়েছে বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন। পাশাপাশি, দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করে সাংসদদের দাবি খারিজ করার জন্য স্পিকারের কাছে লিখিত আবেদনও জানিয়েছে দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিদ্রোহ লোকসভায় আইনি স্বীকৃতি পেলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র আসন সংখ্যা ও রাজনৈতিক শক্তি অনেকটাই বেড়ে যাবে। এর ফলে আগামী দিনে মহিলা সংরক্ষণ বিল বা লোকসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের মতো জটিল সাংবিধানিক পদক্ষেপে এনডিএ শিবির বাড়তি সুবিধা পাবে। আগামী শনিবার মুম্বইতে শিন্ডের সঙ্গে বিদ্রোহীদের পরবর্তী বৈঠকেই তাঁদের চূড়ান্ত রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।