অলৌকিক ক্ষমতার ফাঁদে ফেলে দীর্ঘদিনের শোষণ, ‘মডার্ন গুরুকুলে’ স্বঘোষিত বাবার কুকীর্তি ফাঁস!

পুণেতে অলৌকিক ক্ষমতার প্রলোভন দেখিয়ে এক মহিলাকে বছরের পর বছর ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এক স্বঘোষিত ‘বাবা’কে। ধৃত ব্যক্তি নিজের আশ্রমকে ‘মডার্ন গুরুকুল’ বলে দাবি করতেন। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই আশ্রমের একটি গোপন কুঠুরিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর জিনিসপত্র, গর্ভনিরোধক ওষুধ, মাদক, লক্ষাধিক টাকা এবং প্রচুর ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করেছে।
কুকীর্তির নেপথ্যে ব্ল্যাকমেল ও অন্ধবিশ্বাস
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ওই স্বঘোষিত বাবা নিজের তথাকথিত অলৌকিক ক্ষমতার ফাঁদে ফেলে প্রথমে ওই মহিলার পারিবারিক জীবনে অশান্তি তৈরি করেন এবং কৌশলে তাঁর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটান। এরপর ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে মহিলাকে নিজের আশ্রমে কার্যত বন্দি রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা দিয়ে পরবর্তী সময়ে অনবরত ব্ল্যাকমেল ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। দীর্ঘদিনের এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অবশেষে সম্প্রতি নির্যাতিতা মহিলা পুলিশের দ্বারস্থ হন।
গোপন কুঠুরির চাঞ্চল্যকর সামগ্রী ও সম্ভাব্য প্রভাব
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ওই আশ্রমে অভিযান চালায়। তল্লাশিতে আশ্রমের একটি গোপন কুঠুরি থেকে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা নগদ, সোনার গয়না, মাদক এবং গর্ভনিরোধক ওষুধ উদ্ধার হয়। এছাড়া তথ্যপ্রমাণ লোপাট বা অন্য কোনো অপরাধের যোগসূত্র খোঁজার জন্য ১২টি ল্যাপটপ, ১১টি মোবাইল ফোন এবং ১৯টি হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
এই ঘটনার ফলে সমাজে ধর্মের নামে গড়ে ওঠা তথাকথিত আধুনিক গুরুকুল বা আশ্রমগুলোর অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে গেল। বিপুল সংখ্যক ল্যাপটপ এবং হার্ড ডিস্ক উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের অনুমান, এই চক্রের শিকার কেবল একজন নন, বরং ব্ল্যাকমেলের জাল আরও বিস্তৃত হতে পারে। উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার পর এই চক্রের গভীরতা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের পরিচয় সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।